রবিবার ৯ †g ২০২১


নতুন পথে হাটতে হবে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.04.2021

রাশেদা আখতার

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ( এমডিজি) ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করা বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল, সেই ধারাবাহিকতা কে অব্যহত রেখে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের নেতৃত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ। এই নেতৃত্ব দিতে হলে সবার আগে যা দরকার তাহলো আমাদের কণ্যা,জায়া,জননীদের এগিয়ে আনার যাত্রাপথ তৈরী করে দেয়া।

 

আমাদের দেশে এখন অর্ধেকের ও বেশী জনগোস্টি হলো নারী। এদের যথাযত ভাবে কাজের ক্ষেত্রে সংযুক্ত করার সময় এসেছে, সমাজে নারী পুরুষের সহ অবস্থানের একটি পরিবেশ তৈরী হবার সম্ভবনা সন্মুখে,একে আরো নিরাপদ,নিরবিচ্ছিন্ন,ও সম্মান জনক ভাবে নিরংকুশ রাখতে সকলের সমবেত প্রচেস্টা প্রয়োজন, আমরা যদি একটু এসডিজি’র দিকে তাকাই দেখবো,এটি বিশ্বমানবতার সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ কতৃক গৃহিত একটি কর্মপরিকল্পনা,যা বিশ্বব্যাপী শান্তি,সমৃদ্ধি ও কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রতিস্ঠা করবে এবং নিশ্চিত করবে নারীর অংশগ্রহন ও ক্ষমতায়ন। এমডিজি তে আমরা যে সাফল্যগুলো অর্জন করেছিলাম তাহলো, মাতৃ স্বাস্থ্যের উন্নতি,মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো,প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার কমেছে, রাজনীতি সহ সর্ব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহন বেড়েছে, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ও জেন্ডারবান্ধব আইন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বংগবন্ধু কণ্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা একজন নারী হয়ে আমাদের কণ্যা,জায়া, জননীদের আকাংখার জায়গাটিকে বুঝতে পেরেছেন,আমাদের বেদনায়,হাসিতে, আনন্দে তাকে সমব্যাথি হিশেবে পাই,আমাদের চিন্তা,চেতনায়,তাঁর উপস্থিতি টের পাই আর তাই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শেখ হাসিনার দৃঢ অংগীকার ও সদিচ্ছাকে অন্তরে ধারন করে বাস্তবায়নের বাস্তবতায় নিয়ে আসা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে এসে যায়। নারীদের এগিয়ে আসার পেছনে এখনো অনেক বাধা। ধর্মীয় কুপমন্ডুকতা,সামাজিক প্রতিবন্ধকতা,পারিবারিক বাধা,পারিপার্শ্বিক কৌতুহল এর পাশে আছে যৌননিপীড়ন,নির্যাতন,ঈভটিজিং,হুমকী,এসিড মারা আরো কত উপসর্গ নারীর পায়ে প্রতিদিন শিকল পরায়.। যার ফলে নারী কে ঘরে বাইরে সবখানেই প্রতারিত হতে হয়,বন্চিত হতে হয়,নিগৃহিত হতে হয়, এই অবস্থা থেকে নারীকে মুক্ত হতেই হবে, শৃংখল ভাংতে হবে,যে শৃংখলে বাধা পড়ে আছে প্রতিটি নারীর সোনালী ভবিষ্যত।

এই ভবিষ্যতকে হাতের মুঠোয় এনে দিতে পারে একমাত্র শিক্ষা,শিক্ষিত হওয়া,শিক্ষার আলো দিয়ে অন্ধকারকে মুছে দেয়ার মাধ্যমে। নেপোলিয়ান বোনাপোর্ট যে মা চেয়েছে সেই মাকেও শিক্ষিত হতে বলেছে,যাতে একটা শিক্ষিত জাতি তৈরী করা যায় । সারা জীবন নানী,দাদী,মা- চাচীদের কাছে শুনে এসেছি স্বামীর পায়ের তলায় স্ত্রীর বেহেশ্ত, কত বড় অবিদ্যা… । যখন কোরআনের বাংলা অনুবাদ পড়া শুরু করলাম,তখনই ভুল ভাংগলো, একমাত্র মায়ের পদতলে ছাড়া আর কারো পদতলে বেহেশ্তের উল্লেখ নাই। এগুলো আমাদের ভাবায়, এই একটা ভুল কথা বলে বলে যুগের পর যুগ নারীকে অবদমন করে রাখা হয়েছে, কিল,গুতা খেয়েও চরম লান্ছনার জীবনকেই আপন করে সংসার নামক জগ্দদল পাথর বুকে চেঁপে কাটিয়ে দিয়েছে লক্ষ্,কোটি নারী….। জীবনের বোঝা কে লাগব করতে তাদের অনেকে ই বেছে নিয়েছে বিষের কৌটা, রেল লাইনের সমান্তরাল পথ,ফ্যানের ডানায় ওড়না বেধে ঝুলে পড়ার মত আরো কত আত্মঘাতি নিিয়তি..!!

বাল্যবিয়ে,যৌতুক,পাচার থেকেও রেহাই পায়না নারীরা, একবার যে নারীর জীবনে এমন দুর্যোগ ঘটেছ, তাঁর ঠাই হয়েছে পতিতালয়ে নয়ত পিত্রালয়ে…। সময় এসেছে উঠে দাড়াবার,সব অন্যায়,অত্যাচার কে রুখে দিয়ে আমাদের কণ্যা,জায়া,জননীদের প্রকৃত শিক্ষার আলোয় জেগে উঠতে হবে । আমরা মনে করি,নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা,পুস্টি নিশ্চিত করা এবং আয়বৃদ্ধিমূলক কাজের সাথে যুক্ত করা গেলে একটি পরিবার তথা গোটা জাতি উপকৃত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন মানে নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহন ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হলে নারীর জয়যাত্রার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বাংলার প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নারীর জয়যাত্রাকে টেকসই ও,অর্থপূর্ণ করতে ১০ টি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন, এই দেশ টি কোন দূর্নীতিবাজ,চাঁদাবাজ,যৌনপীড়ক,কিংবা ধর্ষকের নয়,এই দেশ বংগবন্ধুর সোনার বাংলা, এই দেশ কৃষক,শ্রমিক,জনতার,সম সুযোগের,সম অধিকারের,সম মর্যাদার। প্রধানমন্ত্রীর ১০ টি উদ্যোগকে কর্মসুচীতে অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের ছাত্র,ছাত্রী ও তাদের অভিবাবক,শিক্ষক দের সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে, তৃনমূলের উন্নয়নে প্রাতিস্ঠানিক ভাবে ভুমিকা রাখতে পারলে আমাদের আগামী প্রজন্মরা আত্মবিস্বাসী হয়ে উঠবে,তারা উপলব্ধি করবে তাদের ভবিষ্যত নির্মানে প্রত্যয় ও পরিশ্রম কতটা প্রয়োজন। লেখাটা শেষ করতে চাই মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া’ র কথা দিয়ে, তিনি বলেছেন.. ” পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদের কে ( নারী) যাহা করিতে হয়,তাহাই করিব, যদি এখন স্বাধীন ভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হইবে, তবে তাহাই করিব, আবশ্যক হইলে আমরা লেডি ম্যাজিস্ট্রেট,লেডি ব্যারিস্টার,লেডি জজ সবই হইবো,পন্চাশ বছর পরে লেডি ভাইসরয় হইয়া এদেশের সব নারীকে ” রানী,” করিয়া ফেলিব, উপার্জন করিব না কেন? আমাদের কি হাত নাই।? না পা নাই, নাকি বুদ্ধি নাই, কি নাই।?? যে পরিশ্রম আমরা স্বামীর গৃহকার্যে ব্যয় করি, সেই পরিশ্রম দ্বারা কি স্বাধীন ব্যবসা করিতে
পাররিব না ?? ” স্বপ্ন পুরুনের কাংখিত জায়গায় বাংলাদেশ দাড়িয়ে,আমাদের প্রধান মন্ত্রী আমাদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান । তাই মনে করি নিরাপদ জীবন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উদ্যোগ টা আজ,এখনই নিতে হবে আমাদের পরিবারকে,সমাজকে,শিক্ষাপ্রতিস্ঠানকে,রাজনৈতিক দলগুলোকে…এগিয়ে আসতে হবে।
তবেই ন্যায্যতা,সাম্য,ও সামর্থের জয় হবে।।
ধন্যবাদ..

 

রাশেদা আখতার
প্যানেল চেয়ারম্যান
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদ

সভাপতি
জেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম, কুমিল্লা।