মঙ্গল্বার ১৮ †g ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » অর্থাভাবে বিবিএ শেষ না করা জাবের এখন সফল উদ্দ্যোক্তা


অর্থাভাবে বিবিএ শেষ না করা জাবের এখন সফল উদ্দ্যোক্তা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.04.2021

আবদুল্লাহ আল মারুফ।।
কুমিল্লা জেলার বরুড়ার সর্ব দক্ষিণের ইউনিয়ন লক্ষীপুরের নলুয়া চাঁদপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা জাবের হোসাইন। বয়স ৩৫। কিন্তু এই বয়সেই নিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কোন প্রশিক্ষণ বা বই পড়া ছাড়াই শুরু করেন নতুন নতুন কাজ। কখনও দেশি বিদেশী ভিন্ন ভিন্ন জাতের মাছ আবার কখনও বিদেশী জাতের গরুর পালন। উপজেলার তালিকা ভুক্ত খামারিদের মধ্যে তিনি একজন হলেও তার ছিল না পূর্বের কোন অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ।
তরুণ এই উদ্যোক্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ২০১২ সালে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এ বিবিএ প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। মাত্র এক বছরের মাথায় আর্থিক সমস্যার কারণে ছেড়েদেন পড়াশোনা। চলে আসেন নিজ গ্রাম নলুয়া চাঁদপুরে। গ্রামে আসলেই সমাজে প্রশ্ন বিদ্ব হতে থাকেন। কি করেন? কিভাবে চলেন ইত্যাদি নানান ধরনের কটু কথা তাকে মুখ বুঝে সহ্য করতে হয়েছে।
তার দুঃসময়ে এগিয়ে আসেন বড়ভাই এমরান হোসাইন। ইতালি প্রবাসী বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় ২০১৬ সালে প্রথম শুরু করেন গরু পালন। দেশি বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরুর খামার গড়ে তুলেন নিজের বসত ভিটার পাশেই। তবে বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর প্রতিবন্ধক্তাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন তবে লাভের মুখ দেখেন নি তখনও। এভাবেই কোন লাভ ছাড়াই ৩ বছর পার করলেন জাবের।
২০১৯ সালের দিকে জাবের বাড়ির পাশে প্রথম বারের মত গড়ে তুললেন বিদেশী শিং মাছের ফিশারি, যাতে ব্যয় করেন প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। এক রকম নিজের সাথে বাজি ধরেই ছেড়ে দিয়েছেন এই টাকার মায়া। কিন্তু তার ভাগ্য তাকে ছাড়েনি। সেবার আমি আমার জীবনের প্রথম ব্যবসায়ীক কাজে লাভবান হই এবং এটিই ছিল আমার প্রথম সফল হওয়ার অনুপ্রেরণা।
পরিবর্তনের এই কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি আমার কাজের উপর খুবই যত্নশীল ছিলাম। কখনো নিজের কাজে ফাঁকি দেয়নি। আর আমি যে কাজ চ্যালেঞ্জে’র মনে সে কাজই আমার কাছে ভালো লাগে। অবিশ^সা হলেইও সত্যি আমি নিজেও বিশ^াস করতাম না। মাত্র ১ বছরে আমি এতটা লাভবান হবো।
বর্তমানে আমি তিন ভাগের ১৩৬ শতক জায়গায় আমি দেশি মাগুর ও শিং মাছের চাষ করি। এছাড়াও আমার খামারে আছে ১৭টি বিদেশি জাতের গরু, যার প্রতিটির মূল্য লাখেরও বেশি। এই প্রজেক্টে কাজ করে আমার দুইজন সহকারী এবং তারা আমার এই প্রজেক্টে কাজ করেই তাদের পরিবার চালায়।
নিজের স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চাইলে জাবের হোসেন জানান, তার স্বপ্ন ছিল ব্যাংকার হওয়ার। কিন্তু এখন সফল উদ্যোক্তা হওয়াতে নিজেকে আর ব্যর্থ মনে করছেন না জাবের হোসাইন।
ভবিষ্যৎত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাবের হোসাইন খুব উৎসাহের সাথে জানান, আমার পরিকল্পনা আছে লেয়ার মুরগি’র খামার করার। যার জন্য আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব শ্রীঘই আমি লেয়ার মুরগী’র খামার করব। আশা করি, লেয়ার মুরগি’র খামার করলে এলাকার আরো তিন থেকে চারজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাসরিন সুলতানা তনু বলেন আমি এই উদ্যোক্তার কথা শুনেছি। আমি চাই বরুড়া উপজেলায় জাবেরের মত আরও উদ্যোক্তা তৈরী হোক। আমরা করোনা মহামারীর সময়ে উপজেলার সকল খামারিদের কাছে সরকারি সেবা পৌছে দিয়েছি। তাদের খামারের জন্য ভ্যাক্সিন বরাদ্দ আছে। তারা চাইলে যেকোন সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে সেবা নিতে পারেন। এছাড়াও মহামারীর সময়ে তাদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।