রবিবার ৯ †g ২০২১


কুমিল্লায় সড়কে কঠোরতা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
17.04.2021

রুবেল মজুমদার ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের ৪র্থ দিনে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথারীতি কঠোর ছিলো চোখে পড়ার মতো । কিন্তু শহরে বিভিন্ন মহল্লা ও কাঁচা বাজারগুলোর ছিলো একেবারে ভিন্ন চিত্র।
শনিবার দুপুরে নগরীর চকবাজার,ক্যান্টনমেন্ট,পদুয়ারবাজার এলাকাসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আশেপাশের বিভিন্ন মহল্লা ও বাজার সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন চিত্র দেখা যায় ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্বরোড,ক্যান্টনমেন্টের ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করছে। তাও সংখ্যায় খুব বেশি নয়। মাঝে মাঝে দু-একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও নগরীতে প্রবেশ করতে দেখা যায়।নগরীর প্রবেশপথ টছমব্রিজ এলাকায়সহ শাসনগাছা, টমছমব্রীজ, ধর্মপুর, রাজগঞ্জ, চকবাজার, ফৌজদারী সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখান থেকে যাতায়াতকারী প্রতিটি প্রাইভেটকার এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পুলিশের চেকের মুখে পড়তে হচ্ছে।
চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশের এক ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা জানান,‘ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি আমরা চেক না করে ছাড়ছি না। উপযুক্ত অনুমতিপত্র না দেখাতে পারলে ফিরিয়ে দিচ্ছি। প্রয়োজনে অনুসারে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও বিদ্যমান আইনে শাস্তিও করা হচ্ছে।’
এইদিকে নগরীর শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে রাস্তার উভয়পাশেই বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দেয়া যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া,ইজিবাইক বা রিকশা চড়ে লোকজনকে যাতায়ত করতে বিভিন্ন সড়কে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে চোখে পড়ছে ব্যাটারিচালিত ও পায়ে চলা রিকশা। পায়ে চলা রিকশার প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুটা শিথিল হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা পেলেই আটকে দেয়া হচ্ছিল।
নগরীর টছমব্রিজ রোড,চকবাজার,কোটবাড়ি রোড,পদুয়ার বাজার,বিশ্বরোডমুখী সিএনজি স্ট্যান্ড, রানীর বাজার,সিটি রেস্টুরেন্টের গলি, শাসনগাছা রাজগঞ্জ বাজার ,ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড, রাজগঞ্জ ট্রাফিক মোড়, কোতয়ালী থানা গেট ও কাশারীপট্টি মোড়, আলীয়া মাদরাসা গেটসহ এসব এলাকার ভেতরে চলাচল কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পালনের ক্ষেত্রে তেমন কড়াকড়ি চোখে পড়েনি।
এছাড়া নগরীর মহল্লার ভেতরের বেশিরভাগ দোকানপাটই খোলা দেখা গেছে। এলাকার রাস্তার পাশে অস্থায়ী এবং স্থায়ী কাঁচাবাজারগুলোতে ছিল লোকজনের উপচে পড়া ভিড়।বিকালে বিশ্ব রোড এলাকায় বাজার করতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
রাজগঞ্জ দোকানদার নয়ন দাস বলেন, ‘বেচা-বিক্রি নেই। লকডাউন আমাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পবিবারে কথা চিন্তা করে তিনদিন পর আজ দোকান খুললাম, দোকান না খুললে আমার কি সরকার খাবার দিয়ে যাবে? এদিকে তিনদিনের দেখা গেছে, বিকেল হলেই মহল্লার ইফতারির খাদ্যপণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। তখন স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সূত্রমতে,নগরীর বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ৬ টি ভ্রাম্যমাণ আদালত।এছাড়া সমগ্র জেলার ১৭ উপজেলায় জেলা প্রশাসনের ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। কুমিল্লা লকডাউনের গত ৪ দিনে আইন অমান্য করা, দোকানপাট খোলা ও মাস্ক না পরায় কুমিল্লা নগরীসহ ১৭ উপজেলায় ৪৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসময় বিভিন্ন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এবিষয় কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, লকডাউনে করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আমরা গত ৪ দিনে আইন অমান্য করা,দোকানপাট খোলা ও মাস্ক না পরায় কুমিল্লা নগরীসহ ১৭ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪শ ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম বলেন ,হাট-বাজার মহল্লা দোকানপাট বিষয়টি আমরা গুরুত্বভাবে দেখছি।জেলার কোথায়ও লকডাউনের শিথিলতা নেই। আমি নিজে আজ সারাদিন শহরে বিভিন্ন মহল্লা অভিযান পরিচালনা করছি । কোথাও কোথাও দোকান পাট খোলা চেষ্টা করলে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি ।