রবিবার ৯ †g ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » অভিযুক্তদের গ্রেফতার দাবি বাবা-মায়ের দ.জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতিকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা


অভিযুক্তদের গ্রেফতার দাবি বাবা-মায়ের দ.জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতিকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.04.2021

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হাসান দীপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্রলীগ নেতার মা আলেয়া বেগম ও বাবা আবুল কাশেম। মা আলেয়া বেগম ছেলে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা করে লড়ছে উল্লেখ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, কি অপরাধ করেছিল আমার ছেলে দীপু। কেন সন্ত্রাসী সফিক ও তার পালিত সন্ত্রাসীরা এমন নির্দয়ভাবে আমার ছেলেকে মারল। সে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে, শেখ হাসিনার রাজনীতি করে এটাই কি তার অপরাধ? তিনি প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলেকে বিনা কারণে হত্যার চেষ্টার করার উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার বিচার দাবি করেন।
কুমিল্লার একাধিক মামলার আসামি সন্ত্রাসী সফিক বাহিনী কর্তৃক জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. নাজমুল হাসান দীপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় কুমিল্লা নগরীর চকবাজার পৌর মার্কেটে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগ নেতা দিপুর চাচাতো ভাই ও ব্যবসায়িক পার্টনার মো.রুকন উদ্দিন রুকন।
লিখিত বক্তব্যে মো.রুকন উদ্দিন রুকন বলেন, সরকারি বিধি বিধান মোতাবেক ইজারা নিয়ে আমরা গোমতী নদীর একটি ঘাট থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছি। আমরা ইজারা পাওয়ার পর থেকেই সন্ত্রাসী সফিক তাকে ৫০ হাজার টাকা প্রতি মাসে চাঁদা দিতে হবে বলে আমাদের জানায়। ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসান দীপু চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন সময় সে অফিসে এসে হুমকি ধমকি দিত এবং বেশ কয়েকবার আমাদের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। চাঁদা না দেওয়ার জের ধরে গত ১৬ এপ্রিল দুপুর পোনে ১টায় গোমতী নদীর চরে বালুমহালের সামনে ও গোমতী বেড়িবাঁধের ওপর কুমিল্লার বহু মামলার আসামি,শীর্ষ সন্ত্রাসী ও এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ সফিক মিয়ার নেতৃত্বে রাসেল, মো. আবু তাহের,মো. রহমত উল্লাহ ও হোসেনসহ আরো ৩/৪ জন সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জেলা ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসান দীপুকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে দীপুর ইজারাভুক্ত বালু মহালের অফিসরুমসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র,বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ও ড্রেজার মেশিন ব্যাপক ভাঙচুর করে ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে আমরা ছাত্রলীগ নেতা দীপুকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এই ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল সন্ত্রাসী সফিক মিয়া, রাসেল, মো. আবু তাহের,মো. রহমত উল্লাহ ও হোসেনসহ আরো ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে তার ভাই মো.রেজাউল হাসান হৃদয় বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
মামলার বাদী ও আহত ছাত্রলীগ নেতা দীপুর ছোট ভাই মো.রেজাউল হাসান হৃদয় বলেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। আসামিদের গ্রেফতার না করাতে আমাদের গোটা পরিবার এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
মামলার এক নং আসামি সফিক মিয়ার বক্তব্য নেয়ার জন্য তার সেল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই কিবরিয়া বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের কোন অবহেলা নেই। আমি আজও(মঙ্গলবার) আসামিদের বাড়িতে অভিযানে গিয়েছি। তারা আত্মগোপনে আছে। আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।