রবিবার ৯ †g ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ২৫দিন পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল কোরআনে হাফেজ স্বাধীন


২৫দিন পর লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল কোরআনে হাফেজ স্বাধীন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
22.04.2021

সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল, দেবিদ্বার ||
কোরানে হাফেজ মো. অলি উল্লাহ স্বাধীন (১৮) ফুফাত ভাইয়ের দেয়া ভালো চাকরির আশায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলো গত ২২মার্চ। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয় সে। একমাস পর বান্দরবান জেলার লামা থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২জনকে আটক করা হয়েছে। স¦াধীন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরের মো. মোবারক হোসেনের ছোট ছেলে।
নিহতের বাবা মোবারক হোসেন, মাতা লুৎফা বেগম, বড় ভাই মনির হোসেন’র সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হাফেজ হওয়ার পর বুড়িচং উপজেলার খাড়াতাইয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছিলো স্বাধীন। করোনাকালে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় ভালো চাকরির আশায় প্রতিবেশী মৃত মদন খাঁর ছেলে আপন ফুফাতো ভাই মো. আরিফুল ইসলাম (১৯) ও বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের মৃত মালেকের পুত্র ফয়েজ আহমেদের (৪০) সাথে ২২মার্চ বাড়ি থেকে বের হয় স্বাধীন। বেড়ানোর কথা বলে ফয়েজের শ^শুরবাড়ি বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ৬নং রুপসীপাড়া ইউনিয়নের বেতঝিরি গ্রামের মোহাম্মদ হাকিম উল্লাহর বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হাকিম উল্লাহ (৫০) ফয়েজের শ^শুর। ওখানে স্বাধীনকে জিম্মি রেখে গত ২৫ মার্চ দুপুরে সেল ফোনে স্বাধীনের বড় ভাই মনিরের সেল ফোনে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু মুক্তিপণের টাকা কিভাবে কোথায় দেবে জানতে চাইলে সঠিক উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি টাকা দিয়ে স্বাধীনকে নিয়ে আসার প্রস্তাব করলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২৮ মার্চ বুড়িচং থানায় নিহতের ভাই জিলানী বাবু একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি সূত্রে পুলিশ স্বাধীনের ভাইয়ের নম্বরে কল আসা দুইটি ফোন ট্র্যাকিং করে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের বেতঝিরি এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম ও ফয়েজ আহমদকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই শিংঝিরি এলাকা থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় হাফেজ মো. অলিউল্লাহ স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে স্বাধীন নিহতের ঘটনায় বিষ্ণুপুরে তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার অসুস্থ মা বিছানায় বসে মাতম করছে, পাশেই বসে তার শোকাহত বাবা। তিনি জানালেন, কোরানে হাফেজ হবার পর এলাকার অনেকেই বলেছিলো স্বাধীনই তার সংসারে সুদিন আর সুনাম নিয়ে আসবে। আরিফের কথায় ভালো চাকরির আশায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়ে আমার ছেলে তাদের হাতে জীবন দিলো। মাত্র একলক্ষ টাকার জন্য আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে আরিফ আর ফয়েজ।
তার বড় ভাই মনিরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ হবার দুইদিন পর স্বাধীনের ফোন থেকে একটি কল পাই অজ্ঞাত ব্যাক্তি নীলগিরী থেকে ফোন করেছে উল্লেখ করে ১লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চায়। আমরা বারবার স্বাধীনের সাথে কথা বলতে চাই কিন্তু সে ফোন কেটে দেয়। পরে স্বাধীনের ফোন দুইটি চালু থাকায় পুলিশ তা ট্র্যাক করে আমার দুই ভাইসহ লামা থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় অপরহণকারীদের আটক করে এবং স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মো. জিলানী বাবু জানান, আমাদের পরিবারের কাছ থেকে মো. ফয়েজ ও মো. আরিফ ইমুতে স্বাধীনকে অপহরণের বিভিন্ন ছবি দিয়ে ১লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় গত ২৫শে মার্চ হাফেজ মো. অলিউল্লাহ কে শ্বাসরুদ্ধ করে মেরে লামা রুপসীপাড়া ইউনিয়নের শিংঝিরি নামক স্থানের গভীর জঙ্গলে মাটির নিচে পুঁতে রাখে এবং পুলিশের নিকট আটক ফয়েজ ও আরিফ এ হত্যাকান্ডের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।
বান্দরবন লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ত্রিজিত বড়ুয়া জানান, হাফেজ মো. অলিউল্লাহকে অনেক অনুসন্ধানের পর না পেয়ে তার বড় ভাই মো. জিলানী বাবু গত ২৮মার্চ বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। মুক্তিপণ দাবি করা মোবাইল ফোন ট্র্যাকের মাধ্যমে নিহতের ভাই মো. জিলানী বাবু লামা থানায় আরো একটি অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে লামা থানা পুলিশ তদন্তে নামে।
ত্রিজিত বড়ুয়া আরো জানান, তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. ফয়েজ ও মো. আরিফকে গ্রেফতার করেন এবং তাদের স্বীকারোক্তিতে মঙ্গলবার লামার গভীর জঙ্গলে শ^াসরোধে হত্যাপূর্বক মাটির নিচে পুঁতে রাখা হাফেজ মো. অলিউল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ব্যপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, এ বিষয়ে সাংবাদিক ছাড়া কেউ জানায়নি বা অভিযোগ করেনি। তবে আমাদের তথ্যানুযায়ী নিহত ছেলেটির বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের। ওই ঘটনায় বুড়িচং থানায় জিডি হয়েছে।