রবিবার ৯ †g ২০২১


মাঠে নামতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
22.04.2021

কুমিল্লা -৫ উপনির্বাচন

 

#আসন শূন্য ঘোষণা # আ’লীগের আটের বিপরীতে বিএনপির দুই

 

শাহাজাদা এমরান।।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী সদ্য প্রয়াত এড.আবদুল মতিন খসরু কুমিল্লা-৫(বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) নির্বাচনী এলাকাকে এক প্রকার নিজের নিরাপদ আসন হিসেবেই তৈরি করে ফেলেছিলেন। দলীয় মনোনয়ন থেকে শুরু করে এমপি নির্বাচিত হওয়া সব কিছুই ছিল তার একক নিয়ন্ত্রণে। তার জীবিত অবস্থায় এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার মতো আওয়ামী লীগে বিকল্প কোন প্রার্থী দাঁড়াবার সাহস পর্যন্ত পায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে দুই একজন এলাকায় নিজেদের মতো আওয়াজ দেয়ার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না কারো। এই আসন থেকে পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হওয়া সেই মতিন খসরু মারা যাওয়ার পরই তার শূন্য আসনে নির্বাচন করার জন্য ইতিমধ্যে অর্ধ ডজনের বেশি প্রার্থী মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য। অপর দিকে বসে নেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও। দল নির্বাচনে যাক বা না যাক স্বতন্ত্র প্রার্থী হতেও প্রস্তুত আছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কেউ কেউ। সব মিলিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর শোকের আবহ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শুরু হয়ে গেছে আসন্ন উপ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সচিবালায় থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর আসন (কুমিল্লা-৫) শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ফলে ধারণা করা হচ্ছে এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রচারণায় নেমে পড়বে সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগ :
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনটি সারা দেশের মানুষের কাছে এলাকা হিসেবে তেমন পরিচিত না থাকলেও ব্যক্তি মতিন খসরুর আসন হিসেবে এক নামে চিনে সবাই। কুমিল্লা -৫ আর আবদুল মতিন খসরু যেন দুটিই সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে। তিনি তার পরিশিলিত রাজনীতি,শ্রম, মেধা দিয়ে এক অনন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজকে। মহামারী করোনার কারণে গত ১৪ এপ্রিল তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলে তার শূন্য আসন পূরণ করার জন্য এবার শুরু হয়েছে নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলার দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না করলেও অনেকেই স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রয়াত এমপি মতিন খসরুর প্রতি শোক জানানোর মধ্যে দিয়ে প্রচার প্রচারণায় নামার ওয়ার্ম আপ শুরু করে দিয়েছেন। সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের নির্বাচনের মূল কৌশল হচ্ছে মতিন খসরুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ চাওয়া।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর সাথে গত দুই দিনে কথা বলে জানা গেছে, ব্যক্তি এড.আবদুল মতিন খসরুর বিকল্প বর্তমানে এই নির্বাচনী এলাকায় শুধু আওয়ামী লীগেই নয় বিএনপিসহ কোন দলেই নেই। এক অনন্য উচ্চতার রাজনৈতিক নেতা ছিলেন প্রয়াত আবদুল মতিন খসরু এমপি। আবদুল মতিন খসরু ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সম্প্রতি প্রয়াত অধ্যক্ষ মো.ইউনুসের মতো প্রাজ্ঞ ও দক্ষ রাজনীতিবিদ এই আসনে আর আসবে কি না তা যথেষ্ট সন্দেহ আছে বলে জানিয়ে তারা বলেন, তারপরেও তো কিছু খালি থাকবে না। দক্ষ হোক আর অদক্ষ হোক জায়গা পূরণ হবেই।
দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা কর্মীরা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে একেক জন একেক প্রার্থীর কথা বলেন। আবার অনেকে বলেন এখনো সময় আসেনি কথা বলার। তবে ঘুরে ফিরে আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আসছে তারা হলেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও বুড়িচং উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন,সোনার বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও চবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম রেজা সৌরভ , গেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ-’৭১ ঢাকা বিভাগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন, আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সেলিমা সোবহান খসরু, ছেলে মুনেফ ওয়াসিফ, প্রয়াত এমপির সহোদর কুমিল্লা বারের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবদুল মমিন ফেরদৌস, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুছ ছালাম বেগ প্রমুখ। তবে এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম রেজা সৌরভ, ইঞ্জিনিয়ার আল আমিন আর সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী নিজেদের প্রার্থীতার কথা জানান দিচ্ছেন বিভিন্ন পর্যায়ে এবং তারা নিজস্ব নেতাকর্মীদের সাথে শলাপরামর্শও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এবং এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচন করবেন বলে আকারে ইঙ্গিতে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
বিএনপি :
কুমিল্লা ৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না এ নিয়ে আশা নিরাশার দোলায় ধুলছে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সংসদীয় আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। কারণ, সম্প্রতি বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, ভোটারবিহীন এ সকল নির্বাচনের সাক্ষী হতে আর অংশ নিবে না বিএনপি। তারপরেও নির্বাচন কেন্দ্রিক দল হিসেবে বসে নেই বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা কেন্দ্রের দিকে খোঁজ খবর রাখছেন। দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে দলের আপত্তি নাই এমন গ্রিন সিগন্যাল পাইলেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়বেন তারা। এই আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারে , বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ,কৃষক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম আলাউদ্দিন এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাতবারের সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন জসিমের নাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম আলাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কুমিল্লার একটি ইউনিটের প্রধান আপাতত না নাম দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, আলাউদ্দিন ভাই আসন্ন কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনে না গেলে তিনি কি করবেন জানতে চাইলে ওই ছাত্রদল নেতা বলেন,স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন, এটা একদম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাত বারের সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন জসিম বলেন, আমি ২৪ বছর ধরে কুমিল্লা-৫ নির্বাচনী এলাকার মাটি ও মানুষের সাথে রাজনীতি করছি। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার প্রতিটি নেতাকর্মী আমার শুধু পরিচিতই নয় তাদের প্রত্যেকের ঘরের খবরটিও আমি জানি। এই দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের সাথে রয়েছে আমার আত্মিক সম্পর্ক। আমি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির এক বার নয় সাত বারের সভাপতি। সুতরাং আসন্ন উপনির্বাচনে আমি নির্বাচন করার জন্য ঘরোয়াভাবে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছি। দল যদি নির্বাচনে যায় তাহলে অবশ্যই আমি দলীয় মনোনয়ন চাইব এবং আমার অতীতের রাজনীতির অবস্থান বিবেচনা করে দল অবশ্যই আমাকে মনোনয়ন দিবে ইনশাআল্লাহ্ । তবে দল নির্বাচন না করলে আমি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেব। কারণ, আমার কাছে ব্যক্তির চেয়ে দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্য অনেক বড়।