রবিবার ৯ †g ২০২১


চাকরিজীবনের শেষ দিন সম্পর্কে যা বললেন প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.04.2021

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
মাহিনী গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়ার। বড় হয়েছেন অভাব অনটনের মধ্যে। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি আসীন হয়েছেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে। আজ তাঁর চাকরিজীবনের শেষ দিন। তিনি ১৯৭৭ সালে নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া আদর্শ স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৯ সালে ফেনী সরকারি করেজের বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেন। যথাক্রমে ১৯৮২ ও ১৯৮৩ সালে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে। শুরুতে আয়কর আইনজীবী হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি। এরপর শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করে প্রভাষক পদে ১৯৮৮ সালে ফুলগাজী সরকারি কলেজ, ১৯৯২ সালে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২০০১ সালে পুনরায় ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক, ২০০৩ সালে দেবিদ্বার এসএ কলেজ, একই বছরের ডিসেম্বরে ডেপুটেশনে এসে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের উপপরিদর্শক, সেখান থেকে ২০০৬ সালের আগস্টে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় ভিক্টোরিয়া কলেজে পদায়ন, সেপ্টেম্বরে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ২০১০ সালে নোয়াখালী চৌমুহনী সরকারি কলেজে বদলি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, একই বছরের ৩ আগস্ট কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান, ২০১৬ সালের অক্টোবরে প্রফেসর পদে পদোন্নতি পেয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ওই বছরের ডিসেম্বরে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান, ২০১৮ সালের ১৮ মার্চে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও ২০১৯ সালের ১১জুন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।
কর্মজীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সাথে। রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, চাকরিজীবনে নানা অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে তাঁর। তবে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে আকস্মিক পদায়নকে সবার ওপরে রাখতে চান তিনি। তিনি জানান, এটা মিরাকল ছিল। ভাবলাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের পদে থেকে অবসরে যাব। কিন্তু আল্লাহ আমাকে ভিক্টোরিয়া সরকার কলেজের মতো বড় কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন। মেধাবী ছাত্র ও গুণী শিক্ষকদের সম্মিলন ভিক্টোরিয়া কলেজে। কলেজটির আছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এখানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করতে পারা সবচেয়ে গৌরবের। এসময়ে কলেজের পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, কলেজের আর্থিক খাতে শতভাগ স্বচ্ছতা আনয়ন করেছি, দুই দশক ডিগ্রি শাখার মাঠে খেলা হতো না, খেলার মাঠটিকে ন্যূনতম খেলার উপযোগী করে তুলেছি। দুই শাখার পতাকা স্ট্যান্ড সংস্কার, ডিগ্রি শাখার কলা ভবনের ১৮টি পরিত্যক্ত শৌচাগার সংস্কার, ডিগ্রি শাখার পরিত্যক্ত শহীদ মিনারটিকে নান্দনিককরণ, কলেজের উভয় শাখায় দুটি ডিজিটাল স্টুডিও স্থাপন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রত্যেক ভবনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, বিদেশি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র এফএলটিসি বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় স্থাপন, ২০২০ সালে সর্ববৃহৎ অভিভাবক সমাবেশ, ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিযে জাতীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন, ডিগ্রি শাখার মসজিদের নিচতলা ও উচ্চমাধ্যমিকের মসজিদের দোতলায় ব্যাপক সংস্কার ও টাইলসকরণ, টানা অনলাইন ক্লাস চালু রাখা এবং সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে তোলা, কর্মচারীদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, গুগল ফরমে পরীক্ষা গ্রহণ, উচ্চমাধ্যমিকের পার্শ্ব দেয়াল সংস্কার, কলেজ লাইব্রেরিকে ই-লাইব্রেরিতে রূপান্তর, উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখার সকল বিভাগকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, মুজিববর্ষে ওযেবিনারের আয়োজন করে ধ্রুবতারা নামে একটি সংকলন বের করা, ভিক্টোরিয়া কলেজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি জার্নাল প্রকাশ, রোহিতগীরি নামে একটি আঞ্চলিক জার্নাল প্রকাশ, ই-বন্ধন অ্যাপ প্রকাশ, অনলাইনে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে দফায় দফায় মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছি। নানা কাজে সহযোগিতা পেয়েছি কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারের।
প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, আল্লাহর কাছে শোকরিয়া, চাকরিজীবনে আমার কোনো অপূর্ণতা নেই। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজকে তুলে এনে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান করেছি। অন্য কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা না করে এটাকে নিজের মতো করে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে সফল হয়েছি। আমার অপ্রাপ্তি বলে কিছু থাকার কথা নয়।
তিনি জানান, অবসরে যাওয়ার পরপরেই নাঙ্গলকোটে জন্মভূমিতে ফিরে যাবেন। সেখানে একটি কারিগরি কলেজ স্থাপন করবেন। যার জন্য এক একর ৮০শতক জায়গা নির্ধারণ করেছেন। বাকি জীবন ওই কলেজে কাটিয়ে দিবেন তিনি।