রবিবার ৯ †g ২০২১


আনভীরের কঠিন শাস্তির দাবি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.04.2021

মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর তিনদিন অতিবাহিত হয়েছে গতকাল। মৃত্যুর একদিন পর মুনিয়ার দাফন হয়। মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মুনিয়ার বোন। তিনদিনেও মামলার আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনার নানা দিক নিয়ে কথা হয় কুমিল্লার শিক্ষক, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের সথে। তারা অবিলম্বে দোষীকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন।এ ঘটনায় যদি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়, তাহলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন তারা। মতামতগুলো গ্রহণ করেছে দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার তৈয়বুর রহমান সোহেল।

কেউ ভুল করলে তাকে মেরে ফেলতে হবে?

 

-দিলনাঁশি মহসিন
রোটারিয়ান দিলনাঁশি মহসিন বলেন, মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে অনেকে তামাশা করছেন। সবাই তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মেয়েটি দুশ্চিরিত্রা হলে, ছেলেটি কি ভালো চরিত্রের অধিকারী ছিল? আমি মনে করি, এটা স্পষ্ট একটি হত্যাকাণ্ড। এখানে তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আর ও যদি একটি ভুল করেও থাকে, তাহলে তাকে মেরে ফেলতে হবে? আমরা তনুর জন্য রাস্তায় নেমেছি, বিচার পাইনি। এমন অনেক তনু নীরবে-নিভৃতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিচার পাচ্ছে না। এমনই একটি ঘটনা মুনিয়ার মৃত্যু।

 

এতিম মেয়েটি বেঁচে থাকার শক্ত অবলম্বন খুঁজেছিল

 

– মাসুদা তোফা
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মাসুদা তোফা বলেন, অডিও রেকর্ডে দেখছি মেয়েটা কাঁদছে, আমার অন্তর কেঁপে উঠল। ও তো আমারই সন্তান হতে পারত। মা-বাবাহীন এতিম মেয়ে, তার ওপর সংসারের বাকিদের সাথে দূরত্বের কারণে হয়তো সে একটি শক্ত অবলম্বন ধরে বেঁচে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্বত্তরা তাকে হত্যা করেছে। অস্বীকার করি না, মেয়েটি ভুলের ঊর্ধ্বে। তবে এ ভুলের পথে পা বাড়ানোর জন্য সে একা দায়ী নয়। এখানে সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক দূরত্বের একটি বিষয় আছে। এমন অসংখ্য মেয়ে আছে, যারা নার্সিংয়ের অভাবে ভুল পথে চলে যাচ্ছে। ভুলের পথে নিয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী চক্র। আর সে সুযোগ নিচ্ছে আনভীরের মতো চরিত্রহীনরা। যাদের কাছে ভোগ বিলাসিতাটাই মুখ্য। তবে আমি মনে করি, মেয়েটি আনভীরকে প্রচণ্ড ভালোবাসতো, আনভীরও মেয়েটিকে ভালোবাসত। নাহয় প্রতি মাসে এত টাকা মুনিয়ার পেছনে সে ব্যয় করতো না। শিক্ষক হিসেবে আমার দাবি থাকবে, অপরাধীর বিচার হওয়া উচিত। আমরা সত্য কথা বলা বন্ধ করব না। আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

এ মামলায় বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ-

হোসনেয়ারা বকুল
অ্যাডভোকেট হোসনেয়ারা বকুল মনে করেন, মুনিয়ার মৃত্যুর পর যে মামলা হয়েছে, তাতে বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ। তিনি বলেন, আমি বিস্মিত হয়েছি এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হওয়ার কথা শুনে। এ ধরনের ঘটনায় সচরাচর অপমৃত্যুর মামলা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ড মনে হলে, হত্যা মামলা হয়। তাছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলাও অনেক শক্তিশালী হয়। তাদের কেউ ভুল বুঝিয়েছে অথবা তারা ভুল করে এ মামলাটি করেছে বলে মনে হয়। আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামিকে সরাসরি গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকে না। এক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণের দরকার হয়। আর এ প্রমাণ সরবরাহ করতে মেয়ের পরিবারকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। এটা কঠিন হয়ে গেল। বিচারের আশাটাও ক্ষীণ হয়ে আসলো। আমরা একটা ফোনকল রেকর্ড শুনেছি। যুক্তি হিসেবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ রেকর্ড গ্রহণ করেননি। এটা আশাব্যঞ্জক নয়। একজন মেয়ের মা হিসেবে চাইব, অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হোক।

 

হত্যাকাণ্ড তো হত্যাকাণ্ডই

 

– রোকেয়া বেগম শেফালি
এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম শেফালি বলেন, এটা একটি হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ড তো হত্যাকাণ্ডই। এখানে মানুষ অনেক যুক্তি খুঁজতে পারে। তবে এ যুক্তির কোনো দাম নেই। আমার সংশয় হয় তনু হত্যাকাণ্ডের মতো এটা চাপা পড়ে যাবে কিনা। এখানে একটি বিষয় অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে, কারা প্ররোচনা দিয়ে আনভীরের হাতে তুলে দিল। আনভীরের পাশাপাশি ওই চক্রকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে।