মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১


অলস সময়ে শখের কবুতর পালন সাকিবের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.05.2021

মাসুমুর রহমান মাসুদ চান্দিনা।।

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় যাবৎ বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন বিদ্যাপীঠ বন্ধ থাকায় পড়ালেখার চাপ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিপদগামী। কেউবা ব্যস্ত মোবাইল ফোনে, কেউবা ইন্টারনেট দুনিয়ায় আবার কেউবা পরিবারের অবাধ্য হয়ে ভবঘুরে।

এই সময়ে কুমিল্লার ময়নামতি এলাকার ইস্পাহানী স্কুল এ্যন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্র কাইফুর রহমান সাকিব তার সময় কাটাতে চির শান্তির প্রতীক কবুতর প্রেমে মেতে উঠেছে। ঘরে বসে লেখাপড়ার পাশাপাশি সখের কবুতর পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে সাকিব। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতবারপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে কাইফুর রহমান সাকিব।

এবার সময়ও সাকিবরে অনুকূলে আসায় এই গুরুত্বপূর্ণ সময় সুযোগ মোবাইলে গেমস না খেলে, ফেসবুক ইন্টারনেট ব্যবহারে সময় নষ্ট না করে নিজ বাড়িতেই তার বাবা মিজানুর রহমানের সহযোগী এখন সাকিব। বাবার মুরগির খামার ও মাছ চাষের কর্মব্যস্ত জীবন-যাপনের পাশাপাশি শখ করে নিজ বাড়িতে কবুতর পালন শুরু করছে।

সেই কর্মঠ সৌখিন তরুন নিজের সময় কাটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সংস্থানও সৃষ্টি করেছে। তার এই উদ্যোগ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে না হলেও নানা প্রজাতির সখের কবুতর বেড়ে গেছে অনেক। দীর্ঘ হচ্ছে খাঁচার সারি। তার সংগ্রহে আছে রেসার, গ্যাস, ব্লাকহোম, সিরাজী, সূর্যমুখী, গিরিবাজসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অনেক সখের কবুতর।
সারা দিনের রুটিন মাফিক লেখাপড়ার ব্যস্ততার মধ্যেও সাকিব তার এই সখের কবুতরের খাবার ও সেবা যত্ন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেই ভালবাসে।

লোকমুখে সাকিবের সখের কবুতর পালনের গল্প শুনে এতবারপুর গ্রামের আজম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার বাড়িতে কবুতরের মেলা। আর সারা বাড়িতে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর। কবুতরের বাক-বা-কুম শব্দে মুখর ওই বাড়ির আশপাশ। সাকিব নিজেই সারা বাড়ি ঘুরিয়ে তার সখের কবুতরগুলি আমাদের দেখিয়েছে। তারা স্ব-পরিবারে বসবাস করলেও শয়নকক্ষ ব্যতীত কোন কক্ষ এবং কোন পাশে দেয়ালও খালি নেই! সর্বত্রই রয়েছে খাঁচায় বন্দি বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর। ইতিমধ্যে সাকিব এলাকায় কবুতরপ্রেমী হিসাবে বেশ নাম করে ফেলেছে।

কবুতরপ্রেমী স্কুল ছাত্র সাকিব জানায়- কবুতর পালন আমার শখ। আমি আমাদের এলাকায় যখন যেখানে যে প্রজাতির পছন্দের কবুতর দেখি, সাধ্যনুসারে সেই প্রজাতির কবুতর সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। দেশি প্রজাতির কবুতরের কিছু বাচ্চা ছাড়া আর কোন কবুতর আমি বিক্রি করি না, খাইও না। প্রথম দিকে রোগ-বালাইয়ের কারণে কিছু কবুতর মারা যায়। তবে এখন পশু হসপিটালের সার্বিক সহযোগিতায় রোগ বালাই অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।