মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১


হলুদ তরমুজের ভেতর টকটকে লাল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.05.2021

মাহফুজ নান্টু।
মাচায় ঝুলে আছে গোলকার হলুদ তরমুজ। নতুনজাতের এই হলুদ তরমুজ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। হলুদ হলেও তরমুজের ভেতরে টকটকে লাল। রসালো এই তরমুজ খেতেও দারুণ স্বাদ। ফলনও ভালো হয়। প্রথমবারের মতো এই রকম উন্নত জাতের হলুদ তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের কৃষি উদ্যেক্তা আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ইউটিউব দেখে গত বছর ব্ল্যাক সিডজাতের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। গত বছর কালো তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছিলো। সে বারের ভালো ফলন কৃষক আনোয়ারকে উৎসাহিত করে। তিনি এ বছর কালো তরমুজের পাশাপাশি হলুদ তরমুজ চাষ করেন।
কৃষক আনোয়ার জানান, গত দুমাস আগে ৬৫ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেন। যার মধ্যে ৪৫ শতক জমিতে কালো তরমুজ চাষ করেছেন। বাকি ২০ শতক জমিতে হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন।
আনোয়ার জানান, ৬৫ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখনো ফল পরিপক্ব হয়নি। তবুও মানুষের আগ্রহের কারণে বিক্রি শুরু করেছি। প্রথম সপ্তাহে এক লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেছি। আশা করি তরমুজ পরিপক্ব হওয়ার পরের দুই সপ্তাহে অন্তত ৮/৯ লাখ টাকা তরমুজ বিক্রি হবে।
নগর কুমিল্লা থেকে হলুদ তরমুজ কিনতে আনোয়ারের জমিতে যান আতিকুর রহমান, আনিসুর রহমান ও রবিন আহমেদ। তারা জানান, পত্র পত্রিকায় খবরে দেখে এসেছেন। তারা অনেকটা শখের বসে দুটো করে ৬ টি হলুদ তরমুজ কিনেছেন।
ক্রেতা আতিকুর রহমান জানান, হলুদ তরমুজ কেটে দেখেছি। হলুদ তরমুজের ভেতরে লাল টকটকে লাল ও রসালো। খেতেও বেশ সুস্বাদু।
বলারামপুরের বাসিন্দা কামাল হোসেন মজুমদার ও কাজী আরিফ জানান, আনোয়ার হলুদ তরমুজ চাষ করার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ আসছে হলুদ তরমুজ দেখতে। দর্শনার্থীরা আসছেন। দেখছেন। যাওয়ার সময় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আনোয়ার হোসেন গত বছর ইউটিউব দেখে কালো তরমুজ চাষ শুরু করেন। সে সময় তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা। এবারও তিনি হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। তার দেখা দেখি ওই এলাকার কৃষকরা এখন উন্নত জাতের হলুদ তরমুজ চাষে ঝুঁকছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস ওইসব কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।