মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১


শপিংমলের নতুন জামা দেখেই খুশি তারা!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.05.2021

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর।।
ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি। ঈদের আগে শপিংমলগুলোতে দেখা যায় কেনা কাটার উপচে পড়া ভিড়। নতুন পোশাক ছাড়া কি ঈদ হয়! পোশাক কিনেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা। কেউ দেখে ফেললে পুরোনো হয়ে যাবে। স্বাভাবিক পরিবারগুলোতে ঈদের এমন চিত্র দেখা গেলেও পরিবার বিচ্ছিন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে চিত্রটা একটু ভিন্ন। অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে যাদের ঈদ কাটে মলিন পোষাকে। এদেরও বাবা-মায়ের হাত ধরে রঙিন জামা কিনতে ইচ্ছে হয়। ঈদের দিন নতুন পোশাক পরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে সাধ জাগে। সাধ থাকলেও সাধ্যের ব্যবধানে পথ শিশুদের এমন স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। তারা শপিংমলের নতুন জামা দেখেই সাধ মেটায়।
এমনি কিছু পথ শিশুদের দেখা মিলে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ কলেজ সুপার মার্কেটে। তাদেকে শপিংমলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথা হয় দৈনিক আমাদের কুমিল্লা প্রতিবেদেকের। পথ শিশু রিফাত (৭) বলেন, কে দিবে ঈদের পোশাক। আমার বাবা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছে। বাবা মারা যাওয়ার পর মা আরেক লোকের সাথে চলে গেছে। আমি নানীর কাছে থাকি। আমার নানা নেই। নানী অন্যের বাড়ি কাজ করেন। মা বছরে একবার আসেন নানীকে দেখতে, তখনই মাকে দেখতে পাই। আমি এখন বাজারে ঘুরি আর টাকা চাই । যা পাই তা দিয়ে মজা কিনে খাই। বেশী টাকা পেলে নানীকেও দেই।
রিফাতের সাথে ছিল হৃদয় (১১) । হৃদয় বলেন, আমার খুব ইচ্ছে হয় বাবার সাথে ঘুরতে নতুন জামা কিনতে। কিন্তু আমিত বাবা দেখি নাই। মায়ের কাছে শুনছি আমি যখন খুব ছোট তখন বাবা মারা গেছে। ছবিতে বাবাকে দেখছি। মায়ের সাথে থাকি। আমার মা ও আমি বোতল টোকাই। সারাদিন যত বোতল পাই এগুলো ভাঙ্গারি রাজিব মামার দোকানে বিক্রি করে চলি। রাজিব মামা বলছে ঈদে জামা কিনে দিবে।
হৃদয়ের খেলার সাথী রবিউল (১৪),আরিফ (১৫) ও ইয়ামিন (৫) এরা সবাই পথ শিশু। এক সাথে দল বেঁধে হাটে। কারোরই পিতা নাই। আবার কারো মা থেকেও নাই। রবিউল বলেন, মায়ের মুখে শুনছি আমার জন্মের পরই বাবা আরেক মহিলা নিয়ে পলাই গেছে। আর আসে নাই। আম্মা হোটেলে কাজ করে। আমি সারাদিন বোতল কাগজ টাগজ টোকাই বিক্রি করি। আরিফ বলেন, আমাদের আবার ঈদ কি। সারা বছর কাপড়ই সেলাই করে পরি। রমজান আসার পর প্রতিদিন ২০-৩০টাকা করে জমাই। এগুলো দিয়ে পেন্ট শার্ট কিনাম। পড়া শোনা করতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু কি করব। ভাত কাপড়ই পাইনা পড়ব কি দিয়ে।
সচেতনদের মতে,সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের মত আরো অনেক পথ শিশু রয়েছে যাদের জীবনের চাপা কষ্টের কথা হয়ত কেউ জানেনা। সমাজের এই অবহেলিত শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের মুখে হাসি ফুটাতে খুব বেশি কিছু প্রয়োজন নেই। বিত্তবান ও সমাজপতিরা সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়ালেই অসামান্য হাসি ফুটে উঠবে এই শিশুদের মুখে।