মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » এস এম আলাউদ্দিন প্রার্থী হওয়ার খবরে উজ্জীবিত দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা


এস এম আলাউদ্দিন প্রার্থী হওয়ার খবরে উজ্জীবিত দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.05.2021

কুমিল্লা-৫ উপনির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার।।
সাবেক আইনমন্ত্রী কুমিল্লা -৫ সংসদীয় (বুড়িচং-ব্রাক্ষ¥নপাড়া)আসনের এমপি এড.আবদুল মতিন খসরু মারা যাওয়ার পর থেকেই এই আসনের উপ নির্বাচন নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী। অপর দিকে দেশের রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মত এখনি মাঠে প্রকাশ্যে না নামলেও তারাও বসে নেই। বিএনপির ৩ জন প্রার্থী নিরবে মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করা এস এম আলাউদ্দিন প্রার্থী হতে পারেন এই খবরে কুমিল্লা ৫ আসনের দুই উপজেলার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ প্রানচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সিনিয়র এই প্রার্থীর মাঠে আসার খবরে উজ্জীবিত অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরাও।
গত কয়েক দিনে বুড়িচং ও ব্রাক্ষ¥নপাড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ১২ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচন কেন্দ্রীক এক দলীয় জোরপূর্বক মনোভাবের কারণে নির্বাচন নিয়ে তারা খুব বেশী আশাবাদী না। তবে সরকার যদি এই আসনে শতভাগ না হলেও ৮০ ভাগও সুষ্টু ও অবাধ নির্বাচন দিতে পারে আর বিএনপির পক্ষ থেকে অথবা বিএনপি নির্বাচনে না গেলে স্বতন্ত্র হয়েও যদি এস এম আলাউদ্দিন প্রার্থী হয় তাহলেও তারা বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জল বলে জানান তারা। তবে এই প্রতিবেদকের কাছে বক্তব্য দেওয়া বিএনপির কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীই এই মুহুর্তে নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। তাদের বক্তব্য,আগে তফসিল ঘোষনা হোক । তারপর প্রকাশ্যে বলা যাবে।

ব্রাক্ষ¥নপাড়া উপজেলার শশিদল ইউনিয়নে এক বিএনপি নেতা বলেন, বর্তমানে আওয়ামীলীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা কেউই যোগ্যতার দিক থেকে আবদুল মতিন খসরুর ধারে কাছেও নেই। অপর দিকে আমাদের অধ্যাপক ইউনুস স্যার মারা যাওয়ার কারণে আমাদের বিএনপিতেও এক ধরনের যোগ্য প্রার্থীর সংকট রয়েছে। এরমধ্যে মতিন খসরু ও অধ্যক্ষ ইউনুস স্যারের সময়ে এমপি নির্বাচন করেছেন এস এম আলাউদ্দিন সাহেব। তিনি বর্তমান এই আসনের সবচেয়ে সিনিয়র নেতাই নন তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির মত একটি বড় দলের সাবেক সহ সভাপতিও। ২০০৮ সালে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন করারও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। একই সাথে নির্বাচন করলে যে অর্থ লাগে সেটাও রয়েছে তার। সুতরাং যদি এস এম আলাউদ্দিন সাহেব স্বতন্ত্রও নির্বাচন করেন তারপরেও তিনি উভয় দলের ভোট টানতে পারবেন।
বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়ের ৪নং ওয়ার্ডের এক যুবদল নেতা বলেন, এস এম আলাউদ্দিন সাহেবের নির্বাচনে আসার কথা শুনে শুধু যে দলীয় নেতাকর্মীরাই উজ্জীবিত হয়েছে তা নয়। এমন কি অনেক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও চায় এস এম আলাউদ্দিন সাহেবের মত সিনিয়র নেতা নির্বাচনে আসুক,নির্বাচন করে এমপি হোক। কারণ, আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের যে তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে তাতে এস এম আলাউদ্দিন সাহেবের কপাল খুলে যেতে পারে।
বুড়িচং সদরে ব্যবসা করেন সদর ইউনিয়ন জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সার্বিক অবস্থায় মনে হচ্ছে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ নিজেরাই নিজেদের নিয়ে কামড়াকামড়ি করবে। সেখানে এস এম আলাউদ্দিন সাহেবের মত একজন সিনিয়র নেতা যদি স্বতন্ত্রও নির্বাচন করে আর প্রশাসনকে যদি একটু নিরপেক্ষ রাখা যায় তাহলে এস এম আলাউদ্দিন সাহেবের এমপি হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
বুড়িচং ও ব্রাক্ষèনপাড়া উপজেলার দুই জন সিনিয়র নেতা যারা এক সময় বিভিন্ন পদে ছিলেন তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত ২০১৮ সালের ভোটার বিহীন রাতের নির্বাচনের পর থেকে আসলে এখানে একদলীয় আওয়ামী রাজনীতি চলছে। আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের দৃশ্যমান খোঁজ খবর নেয়ার মত কোন নেতাকে আমরা দেখিনি। এখন এস এম আলাউদ্দিন সাহেবের কথা শুনা যাচ্ছে। তিনি যদি সত্যি সত্যি আসন্ন উপ নির্বাচনে প্রার্থী হয় তাহলে নি:সন্দেহে এটা হবে কুমিল্লা ৫ নির্বাচনী এলাকার জন্য এক বিশাল সুখবর। খসরু ভাই ও ইউনুস স্যার মারা যাওয়ার পর আমাদের নির্বাচনী এলাকা আসলে সিনিয়র নেতা শূন্য হয়ে পড়েছে। এই শূন্য স্থান পূরনের জন্য একমাত্র সিনিয়র প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাবেক সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি এস এম আলাউদ্দিন। আমরা চাই আলাউদ্দিন ভাই আসুক এবং কুমিল্লা ৫ কে নেতৃত্ব দিক।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস এম আলাউদ্দিন বলেন, অনেকে মনে করেন আমি দীর্ঘ দিন এলাকায় আসি না। কথাটা সত্য না। আমি গেল বছর করোনার সময়ও ২৪ লাখ টাকার ত্রান দিয়েছি এলাকায়। আমি আসলে দান করি মানুষের কল্যাণে, প্রচারের জন্য নয়। যেহেতু প্রচার করিনি নিরবে দান করেছি সেহেতু অনেকে বলে আমি এলাকায় আসি না। আর খসরু ভাই মারা যাওয়ার পর আমাদের ৫ নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলা থেকেই শুধু বিএনপি না আওয়ামীলীগ থেকেও আমার সাথে অনেক নেতাকর্মী যোগাযোগ করতেছে। তাদের বক্তব্য, প্রয়াত দুই সিনিয়র নেতার একমাত্র বিকল্প হতে পারেন আপনি।আপনি নির্বাচন করেন আমরা আছি। যেহেতু নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ চাচ্ছে তাই আমি আসন্ন উপ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আমি এখন ভাবছি। দেখা যাক কি হয়।