মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » কুমিল্লায় শৈল্পিক বাসা তৈরিতে ব্যস্ত বাবুই পাখির দল


কুমিল্লায় শৈল্পিক বাসা তৈরিতে ব্যস্ত বাবুই পাখির দল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
20.05.2021

মাহফুজ নান্টু।।

বিস্তৃর্ণ ধানী জমি। তার পাশে রয়েছে নালা- খাল। এসব খালের পাড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে গোটা পাচেক তাল গাছ। এসব তালগাছে শৈল্পিক বাসা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে বাবুই পাখির দল। আগামী আষাঢ় শ্রাবণ মাসের আগেই বাসায় আসবে নতুন অতিথি। তাই সুন্দর মজবুত বাসা বানাতে ব্যস্ত বাবুই দম্পতি। বাবুই পাখির সংসার পাতার এমন দৃশ্য এখন কুমিল্লার পল্লীগ্রামে।
জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খালপাড়ের তালগাছে বাসা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে সহস্রাধিক বাবুই পাখি। দিনভর ধানী জমি থেকে বাসা তৈরির খড়কুটু সংগ্রহ করছে। পরে ঠোঁটে করে নিয়ে আসা খড় কুটো দিয়ে সেলাই করে বাসা তৈরি করছে।
রামপুর গ্রামের যুবক মোঃ রুবেল জানান, তিনি ছোট বেলা থেকে তার গ্রামে বাবুই পাখির বাসা তৈরি ও ডিম ফুটে ছানা বের হতে দেখেছেন।
রুবেল বলেন, আমডা যহন ছুডু আছিলাম হেই সময় থাইক্কা দেখতাছি বাইল্লা ( বাবুই) পইক আমডার গেরামের তালগাছডিতে বাসা বান্ধে। আমডা এডিরে বিরক্ত করি না।
রামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বীরমুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান বলেন, এক সময় রামপুরসহ আশেপাশের গ্রামে প্রচুর তালগাছ ছিলো। সেই সব তালগাছে আশ্রয় নিতো চিল শকুন। বর্ষার আগে তালগাছে বাসা বাঁধতো বাবুই পাখি। বাবুই পাখিরা দিনরাত কিচির মিচির করতো। এখন তালগাছ কমে গেছে। আগের মত তাল গাছ নেই। বাবুই পাখিও নেই।
পাখি বিশেষজ্ঞ রইস উদ্দিন জানান, বাবুই দলবদ্ধ প্রাণী। কলোনী করে থাকতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশে তিন ধরণের বাবুই পাখি দেখতে পাওয়া যায়। দেশী বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই।
বাবুই পাখি সাধারণত তাল,নারিকেল, খেজুর, রেইন্ট্রি ও কড়ুই গাছে বাসা বাঁধে। বাসা উল্টানো কলসির মত। খুবই পরিশ্রমী পাখি। এরা দু‘রকম বাসা তৈরি করে। পুরুষ পাখির জন্য এক রকম। স্ত্রী পাখির জন্য একমুখওয়ালা বাসা তৈরি করে। যেখানে ঝড়বৃষ্টিতে স্ত্রী পাখি নিরাপদে ডিম পাড়া, ডিমে তা দেয়া থেকে শুরু করে ছানার যত্নআত্তি করতে পারে।
কুমিল্লা গোমতীর নদীর দুই পাড়ে ও চরে দেখা যায় প্রচুর তালগাছ। খাবারের পর্যাপ্ততার কারণে বাবুই পাখি আশ্রয় নিচ্ছে সে সব তালগাছে। গোমতী নদীর সদর উপজেলার শাহপুর, গোলাবাড়ী, বুড়িচংয়ের বালিখাড়া,বুড়বুড়িয়াতে প্রচুর বাবুই পাখির বাসা দেখা গেছে। ওইসব এলাকার তাল ও খেজুরগাছে শত শত বাবুই পাখি নিরাপদে বাসা বুনতে দেখা গেছে।
গোমতীপাড়ের কৃষক মুজাহিদ মিয়া বলেন, দশ বারো বছর আগে হাজার হাজার তালগাছ আছিলো। আমডা ক্ষেতে কাম করতাম। বহুত বাইল্লা তাল গাছে জাগা না পাইয়া অইন্য গাছেও বাসা বানতো। কত বাইল্লা যে আছিলো আল্লায় কইতো পারবো। অহন তাল গাছ খেজুর গাছ কমতে। আগের মত বাইল্লাও দেহি না।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অমিতাভ কুমার বাড়ৈ বলেন, বাবুই পাখি উচু গাছে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে তালগাছ, খেজুরগাছে, কড়ুই গাছ। যেখানে মানুষসহ অন্য প্রাণী সহজে নাগাল না পায়। তবে মানুষের আগ্রাসী আচরণের কারণে দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা কমে আসছে। কিছুদিন আগেও ধান খাওয়ার অভিযোগে শত শত বাবুই পাখি ও ছানাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এটা অত্যন্ত অমানবিক কাজ। কারণ বাবুই পাখি পরিবেশের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।