মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১


হাজীগঞ্জে তরুণীকে গণধর্ষণ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.05.2021

মহিউদ্দিন আল আজাদ, হাজীগঞ্জ।।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী (২০) বাদী হয়ে ২৪ মে (সোমবার) চারজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ এ ঘটনায় মামলায় অভিযুক্ত আসামি ৬নং পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. মহিনউদ্দিন (২৬), একই গ্রামের মাঝি বাড়ির মো. দুলাল মিয়াজীর ছেলে মো. শাকিল হোসেনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে। আরো ২ আসামি পলাতক রয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, ওই মেয়ে (২০) গত ২২ মে নদী বাড়ি নামক স্থানে ঘুরতে আসে। সেখানে শাকিল নামে এক যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। পরে রাতে ওই তরুণী বাড়ি যেতে চাইলে শাকিল ও তার সহযোগীরা কৌশলে নদী বাড়ি সংলগ্ন একটি বালুর মাঠে নেয়। এসময় মহিনউদ্দিন ও শাকিল ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই তরুণীকে কয়েকবার ধর্ষণ করে।একই রাতে রান্ধুনীমুড়া বৈষ্ণব বাড়ি সংলগ্ন শাকিলের খালার বাড়িতে নিয়ে রান্ধুনীমুড়া গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর শুকুর আলমের বাড়ির মো. ইউসুফের ছেলে ইসমাইল (৩২) ও তার ছোট ভাই কালু (২১) কয়েকবার ধর্ষণ করে।
নির্যাতিতা তরুণীকে সকালে ধর্ষণকারীরা রাস্তার পাশে মাঠে ফেলে যায়। মেয়ের কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ) সার্কেল সোহেল মাহমুদের দিক নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে ২৩ মে দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে আটক করে। অপর দুই আসামি ইসমাইল ও তার ছোট ভাই কালুকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
সোমবার সকালে নির্যাতিত তরুণীকে মেডিকেল টেস্টের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর শুকুর আলমের বাড়ির মো. ইউসুফের ছেলে ইসমাইল (৩২) ও তার ছোট ভাই কালু (২১), ৬নং পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. মহিনউদ্দিন (২৬) একই গ্রামের মাঝি বাড়ির মো. দুলাল মিয়াজীর ছেলে মো. শাকিল হোসেন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চিঁচকে চোর। নদী বাড়িতে তারা সব সময় ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রয় করে থাকে। বৈশি^ক মহামারি করোনার মধ্যেও নদী বাড়ি নামক আড্ডাখানায় মেলা চালিয়ে যুবক-যুবতীদের মিলন মেলায় পরিণত করেছে। ফলে এখানে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।