মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » টেবিল-আলমারি ভেঙে শ্রমিকের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ!


টেবিল-আলমারি ভেঙে শ্রমিকের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.05.2021

ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান-শ্রমিক দ্বন্দ্বে উত্তেজনা

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
রাগান্বিত হয়ে নিজ কার্যালয়ের টেবিল ভাঙেন কাস্টোডিয়ান। এ ঘটনায় উল্টো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। গত ২২মে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৪ মে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মৌখিক অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ করেন কুমিল্লা ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান হাসিবুল হাসান সুমি।
সূত্রে জানা যায়, ২২ মে বিকেলে শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর এলাকার দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিকরা কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে কাস্টোডিয়ান হাসিবুল হাসান সুমির কাছে যান। এসময় দুই শ্রমিকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে নিজের টেবিলে সজোরে ধাক্কা মারেন তিনি। সাথে সাথে টেবিলের কাচ ভেঙে যায়। এরপর তিনি শ্রমিকদের বলেন, ‘তোমরা এ কাচ ভেঙেছ। কারো প্ররোচনায় তোমরা এ কাজ করেছ। তোমাদের সবার চাকরি থাকবে না।’
ওইদিন শ্রমিকরা চাকরি হারানোর ভয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজল আলীর কাছে গিয়ে বিষয়টি খুলে বলেন। পরদিন কাউন্সিলর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে কাস্টোডিয়ানের সাথে দেখা করেন এবং শ্রমিকদের যাতে কোনোপ্রকার সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার অনুরোধ করেন।
নিয়মানুযায়ী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়ম থাকলেও কাউকে না জানিয়েই ২৪ মে থানায় অভিযোগ করেন কাস্টোডিয়ান। ২৫ মে পুলিশ শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিল বলে একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন।
২৬মে ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সাংবাদিকদের অনুরোধে কক্ষটি খোলা হলে দেখা যায়, মেঝেতে কয়েকটি বই পড়ে আছে। টেবিলের সাথে আলমারির কাচও ভাঙা!
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন শ্রমিক জানান,‘ কিছু দাবি নিয়ে আমরা কাস্টোডিয়ানের রুমে যাই। একপর্যায়ে কাস্টোডিয়ান উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উনি (কাস্টোডিয়ান) মেজাজি লোক। উত্তেজিত অবস্থায় তিনি সজোরে টেবিলে থাপ্পড় মারলে টেবিলটি ভেঙে যায়। এরপর তিনি আমাদের ওপর দোষ চাপিয়ে বলেন, টেবিল তোমরা ভেঙেছ। কারও চাকরি থাকবে না। আমরা ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে যাই। এরপর ভুলেও সেখানে যাইনি। কিন্তু, তিনিই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন!’
স্থানীয় কাউন্সিলর ফজল আলী জানান,‘ শ্রমিকরা আমার এলাকার। ছোটবেলা থেকে ওরা এখানে কাজ করছে। এখানকার কোনো কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতেও ওরা ভয় পায়। তারা ভাঙচুর করতে পারে, এটা বিশ্বাস হয় না।’
কাস্টোডিয়ান হাসিবুল হাসান সুমি বলেন,‘ ওরা দলগতভাবে এসে আমার ওপর চড়াও হয় এবং এখানে ভাঙচুর করে। নিরাপত্তার স্বার্থে আমি থানাকে জানাই।’
ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে (আঞ্চলিক পরিচালক) জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ তিনি আমার কথা শুনতে চান না। তাই ওনাকে জানাইনি।’
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান জানান,‘ বিভিন্ন ব্ল্যাঙ্ক পেপারে শ্রমিকদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিচ্ছেন কাস্টোডিয়ান কার্যালয়ের বুকিং সহকারী নজরুল, এ মর্মে ২৭জন শ্রমিক আমার কাছে গত ১৭মে লিখিত অভিযোগ দেয়। এটা নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য কাস্টোডিয়ান এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার এতদিনেও সে আমার কাছে লিখিত ও মৌখিক কোনো অভিযোগ দাখিল করেনি। পুলিশকে ডেকে এনে শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করিয়েছে, সেখানেও আমাকে রাখা হয়নি। ১৭ মে’র অভিযোগের দায় মেটাতে এ পরিকল্পিত ঘটনা ঘটিয়েছে কাস্টোডিয়ান।’
সদর দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ দেবাশীষ চৌধুরী জানান,‘ কাস্টোডিয়ানের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ২৫মে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়। তদন্তে তেমন কিছু পাইনি। মূলত, তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’