মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » ব্রাহ্মণপাড়ায় মৌসুমি ফলে ভরপুর বাজার,দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ


ব্রাহ্মণপাড়ায় মৌসুমি ফলে ভরপুর বাজার,দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
31.05.2021

ফারুক আহাম্মদ, ব্রাহ্মণপাড়াঃ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মৌসুমি ফলে ভরপুর বাজার কিন্তু দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে রয়েছে অসন্তোষ। পালাবদল এসেছে প্রকৃতিতে। বছর ঘুরে আবারও এসেছে জ্যৈষ্ঠ মাস। জ্যৈষ্ঠ মাসকে মধুমাসও বলা হয়ে থাকে। মধুমাসের এই সময়ে সারাদেশেই চোখে পড়ে গ্রীষ্মকালীন নানান ধরনের ফলের। প্রতি বছরের মতো এবারও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলে ছেয়ে গেছে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ফলবাজার। তবে মৌসুমি হলেও মধুমাসের ফলগুলোর দামও কিন্তু বেশ চড়া। তাই দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। ফল বিক্রেতারাও দাম বেশি থাকার কথা স্বীকার করছেন। তারা বলেন, পাইকারি বাজার থেকে গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি দামেই ফল কিনতে হয়েছে আমাদের। যার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। সরেজমিনে ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাজারেই গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের সমারোহ। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে লিচু, কাঁঠাল, আম, তালের শ্বাস, আনারস ইত্যাদি। এছাড়া মৌসুম শেষ হওয়ায় বিদায়ের পথে থাকা বেল, বাঙ্গি ও তরমুজের মতো ফলও দেখা যাচ্ছে বাজার গুলোতে। এসব ফলের গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে প্রতিটি বাজারে। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফলের মধ্যে বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে লিচু। এছাড়া পাড়া-মহল্লায় অনেকে ভ্যানে করে মৌসুমি ফল বিক্রি করছেন অনেকেই। বাজারগুলো থেকে কিছুটা কম দামেই ফল বিক্রি হচ্ছে ভ্যানের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে। উপজেলার অন্যতম ফলের বাজার সাহেবাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি ফল বিক্রিতে। তারা মূল দোকানের সামনের অংশে মৌসুমি ফল রেখে ক্রেতাদের ডাকছেন এবং তাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এ বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে লিচু। এছাড়া হিমসাগর, লেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের আমও শোভা পাচ্ছে ফল দোকান গুলোতে। তবে লিচু পুরোদমে পরিপক্ক হলেও আম মাত্র আসতে শুরু করেছে বাজারে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ফল বাজারের বেশির ভাগ অংশ থাকবে মিষ্টি ও রসালো আমের দখলে। সাহেবাবাদ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, এই বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে লিচু। প্রকার ভেদে প্রতি এক শত লিচু বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। কিন্তু এরপরও ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি লিচুই কিনছেন। প্রতিটি দোকানেই অন্যান্য ফলের তুলনায় লিচু বেশি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমের মধ্যে আছে হিমসাগর, নকলা, ল্যাংড়া। প্রকারভেদে হিমসাগর ৮০-৯০টাকা,নকলা ৭০-৮০টাকা এবং লেঙড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০টাকা। আনারস বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৮০-১০০টাকা। তালের শ্বাস বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২০টাকা করে। আরেকটি মধুমাখা ফল কাঁঠালের দাম অনেক চড়া। যার প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০টাকা। তবে বিক্রেতারা বলছেন বাজারে ফল আসার সাথে সাথে দামও কমতে থাকবে। আরেক ব্যবসায়ী পারভেজ মিয়া বলেন, আমের বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। তবে লিচুর এখন ভরপুর মৌসুম। তাই লিচুর ব্যবসা জমজমাট। এছাড়া মৌসুমের শেষ দিকে হলেও এখনও বাজারে তরমুজ আছে। তিন’শ থেকে ৫’শ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। আমের বেচাকেনা জমে উঠবে আগামী সপ্তাহ থেকে। মৌসুমি ফল কিনতে আসা ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ৩০০ টাকা দিয়ে এক’শ লিচু কিনেছি। বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল থাকলেও দাম চড়া। তাই ইচ্ছে থাকলেও অনেকে পরিবারের সদস্যদের এসব মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারছে না। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা। যাতে সকল শ্রেণির ক্রেতারা এসব মৌসুমি ফল কিনতে পারে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়েও দেখা যায় নানান ধরনের ফলের সমারোহ। এ বাজারে ভারত সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি কাঁঠাল ও আনারস বিক্রি জমজমাট। সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা বাইসাইকেলে করে মৌসুমি ফল কাঁঠাল, আনারস ও কলা এনে এই বাজারে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে সাধারণ ক্রেতারা বলেন, যদি প্রশাসন একটু মনিটরিং করে তাহলে সব শ্রেণীপেশার মানুষ বছরের এই সময়ের মৌসুমী ফল খেতে পারবে।