মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » নিজের অনিয়ম ঢাকতে শ্রমিকদের ফাঁসাচ্ছেন কাস্টোডিয়ান


নিজের অনিয়ম ঢাকতে শ্রমিকদের ফাঁসাচ্ছেন কাস্টোডিয়ান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.06.2021

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারের এক বুকিং সহকারীর নামে নালিশ করে চরম বিপাকে পড়েছেন এখানে কর্মরত ৩১ শ্রমিক। ওই বুকিং সহকারীকে বাঁচাতেই শ্রমিকদের নামে ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের মিথ্যা অভিযোগ এবং তার হুমকী-ধমকিতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে নিজের অনিয়ম-দুর্নীতি ঢাকতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই নিজ কার্যালয়ে ভাংচুর করে উল্টো শ্রমিকদের ফাঁসাতে উঠেপরে লেগেছেন কাস্টোডিয়ান হাসিবুল হাসান সুমি ।
এব্যাপারে কাস্টোডিয়ান হাসিবুল হাসান সুমি জানান, গত ২২ মে শনিবার জাদুঘর ও শালবন বিহার এলাকায় দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকরা দলগতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে তার কক্ষে প্রবেশ তার ওপর চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায়।’ তিনি বলেন, ‘৩১জন শ্রমিকই এর সাথে জড়িত। নিরাপত্তার স্বার্থে ২৪ মে আমি বিষয়টি আমাদের অধিদপ্তরের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে এবং লিখিত ভাবে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাকে জানিয়েছি।’ ঘটনার দুই দিন পর অভিযোগের কারণ হিসেবে কাস্টোডিয়ান বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় লিখিত ভাবে অভিযোগ করতে দেরী হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, ২২ মে বিকেলে কাস্টোডিয়ান তার কার্যারয়ে শ্রমিকদের ডাকেন। এসময় তারা দা-ছেনি-কাস্তে ধার করানোর টাকার দাবি জানান। কাস্টোডিয়ান শ্রমিকদের কাছে বুকিং সহকারী নজরুল নামে আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে অভিযোগ করার কারণ জানতে চান। শ্রমিকরা বলেন, তিনি (কাস্টোডিয়ান) মেজাজি লোক। এসময় উত্তেজিত হয়ে তিনি নিজেই টেবিলে সজোরে থাপ্পর মেরে টেবিলের কাচ ভেঙে বলেন, ‘তোমরা এ কাচ ভেঙেছ। তোমাদের চাকরি থাকবে না।’
এব্যাপারে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজল খান বলেন, ‘শ্রমিকরা আমার এলাকার লোক। ওদের আমি ভালো করেই চিনি। ওরা ভাঙচুর করবে দুরের কথা; কর্মকর্তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতেও ভয় পায়।’ শ্রমিকরা ওইদিনই আমার কাছে চাকরি হারানোর হুমকী দেয়ার বিষয়টি খুলে বলেছেন। পরদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে কাস্টোডিয়ানের সাথে দেখা করে শ্রমিকদের যাতে কোনোপ্রকার সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার অনুরোধ করলে কাস্টোডিয়ান আমার সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এদিকে গত ২৫ মে জেলা প্রশাসক বরাবর শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দেয়া একটি স্বীকারোক্তিমূলক লিখিত জবানবন্দীতে ১১জন শ্রমিকে স্বাক্ষর নেন কাস্টোডিয়ান। যাতে উল্লেখ করা হয় এই ভাংচুরের সাথে ওরাই জড়িত।
এ ব্যপারে স্বাক্ষর দেয়া কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ভাংচুর করিনি তাহলে স্বীকারোক্তিমূলক লিখিত জবানবন্দী দিতে যাবো কেন? আমরা লেখাপড়া না জানা মানুষ, স্বাক্ষর করতেই কলম ভাঙে। কাস্টোডিয়ান স্যার আমাদের বলেছেন, সমস্যার সমাধান এবং চাকুরী পুনর্বহালের কথা। তাই আমরা স্বাক্ষর করেছি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরীর জানান, ‘আজ পর্যন্ত কাস্টোডিয়ান লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেননি। সরকারি অফিসে ভাংচুরের ঘটনা জেনে আমি নিজের উদ্যোগেই একজন অফিসার পাঠাই। এরপর গতকাল (২৭ মে) সন্ধ্যায় তিনি আমাকে ফোনে জানান, দেখা করে কথা বলতে চান। কিন্তু এখনও আসেননি।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকরা এমন কিছু করে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী কাস্টোডিয়ান তা আমার কাছে লিখিত জানাতে পারতো। কিন্তু জানায়নি। উল্টো কয়েকজন শ্রমিক আমার কার্যালয়ে এসে বিষয়টি খুলে বলেছে।’ ড. আতাউর রহমান বলেন, ‘কাস্টোডিয়ান কার্যালয়ের বুকিং সহকারী নজরুল শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাঙ্ক পেপারে (সাদা কাগজে) স্বাক্ষর নিয়েছে। এ মর্মে ২৭জন শ্রমিক গত ১৭মে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করে। শ্রমিকদের করা অভিযোগের দায় এড়াতেই কাস্টোডিয়ান এমনটি করেছেন কিনা তাও তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।’