মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১


লালমাইয়ে টেন্ডার ছাড়াই সড়কের গাছ কর্তন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.06.2021

জহিরুল ইসলাম জহির,লালমাই।।
সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী ও লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল হালিম মজুমদারের বিরুদ্ধে হরিশ্চর-কাশিনগর সড়কের ভাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে মজিবনগর এলাকায় বনায়নকৃত অর্ধশতাধিক মেহগনি ও একাশি গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৭-৮দিন ধরে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ক্রেতাদের গাছ কর্তনে সহায়তা করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বিক্রিত গাছের আনুমানিক মূল্য ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

প্রত্যক্ষদর্শী, বনায়ন সংশ্লিষ্ট ও ভূমি মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের অনাপত্তি সাপেক্ষে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. তৈয়ব আলীর সাথে উল্লেখিত সড়কে বনায়নের বিষয়ে চুক্তি (মেয়াদঃ ৩০/০৪/২০৪৩ইং পর্যন্ত) করেন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (রেজি: নং কুমি/১৮৮৪/০৯ইং) প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল হালিম মজুমদার। সেই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, রোপিত গাছ নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে দুই ধাপে বিক্রি করা হবে। বনায়নকারী সংগঠন উপজেলা বন সংরক্ষক কমিটিকে লিখিতভাবে অবহিত করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে টেন্ডার বা সরাসরি মাইকিং করে সর্বোচ্চ ডাক দাতার কাছে গাছ বিক্রি করা হবে। গাছের বিক্রিত অর্থের ১৫ ভাগ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬০ ভাগ বনায়নকারী (উপকারভোগী), ১০ ভাগ ভূমি মালিক, ১০ ভাগ সামাজিক বনবিভাগ ও ৫ ভাগ বৃক্ষরোপণ তহবিল টিআইএফ ভোগ করবে। চুক্তিনামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন ভুলইন দক্ষিণ ইউপি সচিব মো. ওবায়দুর রহমান ও ৫নং ওয়ার্ডের তৎকালীন মেম্বার মো. সফিকুর রহমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি মেম্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছর হরিশ্চর-কাশিনগর সড়কে প্রশস্থকরণ কাজ চলাকালীন আবদুল হালিম মজুমদার প্রায় শতাধিক গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করেছেন। যেগুলোর বাজারমূল্য হবে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা। এবারও তিনি অনুমোদন ছাড়া অর্ধশতাধিক একাশি ও মেহগনি গাছ বিক্রি করেছেন।

সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল হালিম মজুমদার মোবাইল ফোনে বলেন, গাছগুলো আমি লাগিয়েছি। অনেক কষ্ট করে গাছ বড় করেছি। নিজের চিকিৎসার জন্য ৮-১০টি গাছ বিক্রি করেছি। তাছাড়া গাছগুলো উপজেলা প্রশাসন বা বন বিভাগের নয়। তারা আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। এই বনায়নের কর্তৃপক্ষ হলো সড়ক বিভাগ। অবশ্য পরবর্তীতে সরজমিনে গেলে তিনি গাছ বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে কিছু নষ্ট গাছ কর্তনের দাবি করেন।

ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, বিষয়টা আমি আগে থেকে জানতাম না । চুক্তি কোন ইউনিয়নের সাথে হয়েছে সেটাও জানি না। তবে অনুমোদন ছাড়া সড়কের গাছ কর্তনের বিচার চাই।
লালমাই উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, টেন্ডার বা অনুমোদন ছাড়া সরকারি সড়কের গাছ কর্তন বেআইনি। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার অজিত দেব বলেন, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।