মঙ্গল্বার ১৫ জুন ২০২১


বিদেশি ফলের বাগান করে দৃষ্টান্ত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.06.2021

আখাউড়া প্রতিনিধি।।

শখের বশে বিদেশি জাতের ফলের বাগান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকার ব্যবসায়ী মো. জুয়েল খান।
ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রতি ঋতুতেই বাংলা সাজে তার নিজস্ব প্রকৃতির রুপে। ভরে উঠে চির সবুজ বাংলার ফসলের মাঠ। সেই সঙ্গে দেশি বিদেশি নানান ফল-ফুলে যেন সমাহার হয়ে উঠছে। এরইমধ্যে শখের বশে পৈত্রিক বাড়িতে বিদেশি জাতের ফল ও বাগান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকার ব্যবসায়ী মো. জুয়েল খান।

বাগানে গৌরমতি, আম্রপালি, তাইওয়ান কিং, কাটিমন, কিউজাই, ড্রাগন, গোরমতি, বানানা ম্যাংঙ্গো, রামবুটান ও বারো মাসি আম, টমেটো শোভা পাচ্ছে। পেশাগত কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি এ ফলের বাগান গড়ে তোলেন।

বর্তমানে তার বাগানে বিদেশি জাতের অর্ধ শতাধিক আম গাছ ও ১১২টি ড্রাগন গাছ রয়েছে। তাছাড়া ধনিয়া পাতা, টমেটোসহ নানা প্রজাতির সবজির আবাদ করা হয়। বাগানে থাকা এক একটি আম গাছ তিন থেকে ৪ হাত উচ্চতায় রয়েছে। গাছে গাছে ঝুলছে নানা রকমের বিদেশি আম। আমের ভারে যেন ডালগুলো নুইয়ে পড়ছে। তাছাড়া এই বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ভিড় করছে। প্রথমবারের মতো বিদেশি জাতের ফল বাগান করে তিনি যেনো এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।

বাগান মালিক জুয়েল খান জানান, ছোট বেলা থেকেই কৃষি কাজের প্রতি রয়েছে তার যথেষ্ট আগ্রহ। সময় সুযোগের অভাবে তিনি এই কাজটি করতে পারেন নি। তাই বাড়িতে ৪ বছর আগে দেড় বিঘা জমিতে নুরখান অর্গানিক এগ্রো লিমিটেড নামে একটি ফল বাগান গড়ে তুলেন। মাটি ভরাট, বাউন্ডারি, পয়ঃনিস্কাশন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গাছের চারা ক্রয়সহ অন্তত ৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। বাগানের চারদিকে সুউচ্চ বাউন্ডারি আর আলোকসজ্জা করে রাখেন। যে কেউ রাতে তার বাগানে আসলে যেন চমকে যায়।

জুয়েল আরো বলেন, প্রথম অবস্থায় ফলন নিয়ে এক প্রকার দুশ্চিন্তায় থাকলেও ভালো করে রক্ষণাবেক্ষণ করায় এখন তা দূর হয়ে গেছে। বাগানে যে পরিমাণ যত্ন করা দরকার দিন রাত তা করা হয়। যার ফলে বাগানে ফলন ভাল হয়েছে। মূলত গাছের ফলন নির্ভর করে যত্নের ওপর। পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে সঠিক সময় কীটনাশক ব্যবহার করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, একটি সময় ছিল শুধু চাষিরাই নানা প্রজাতির ফল চাষ করতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন শুধু চাষিই নন শিক্ষার্থীদের পাশপাশি নানা বয়সের লোকজন বেশ আগ্রহ নিয়ে বাড়িতে নানা রকমের ফল চাষ করে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ করতে সেই চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে তার বাগানের সুনাম এলাকার পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই দৃষ্টিনন্দন বাগান দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ভিড় করছেন।

পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার মো. ফারুক মিয়া বলেন, লোক মুখে শুনেছি এখানে দেশি বিদেশি জাতের ফল ও সবজি চাষ করা হয়েছে। তাই দেখতে আসা। এতো মনোরম পরিবেশে বাগান আর কোথাও দেখিনি।

রাধানগর এলাকার মাসুম বলেন, এই বাগান দিনের থেকে রাতে দেখতে খুবই ভালো লাগে। গাছসহ বাগানের চারদিকে বিভিন্ন প্রকারের আলোকসজ্জা করায় খুবই ভালো লাগে।

 

কলেজ পাড়ার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এই রকম বিদেশি জাতের আম বড় বড় হাট বাজারে দেখা যেতো। এখন এলাকায় এসব চাষ হচ্ছে তাই দেখতে আসা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, সৌখিন মানুষ ছাড়া মূলত দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফল ও সবজি চাষ করা সম্ভব নয়। জুয়েল খান তাদের মধ্যে একজন। তিনি নানা প্রতিকূলতাকে অপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিদেশি জাতের নানা রকমের ফল চারা সংগ্রহ করে এ বাগান গড়ে তুলেছেন। ফলন ভাল করতে তাকে সার্বিকভাবে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।