শুক্রবার ১৭ †m‡Þ¤^i ২০২১


বর্ষার শুরুতে সড়কে কলা গাছ!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.06.2021

রুবেল মজুমদার ।।
বর্ষা মৌসুম শুরু। দু’এক পশলা বৃষ্টিও হয়েছে। আর তাতেই সড়কের বেহাল দশা। হাঁটু সমান কাদায় একাকার। নগরী সংলগ্ন আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর চৌমুনীর রাস্তায় কলা গাছ লাগিয়েছে স্থানীয় জনগণ। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়-দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর চৌমুনীর রাস্তাটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন স্থলবন্দরের বড় বড় গাড়ি এবং কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। কিন্তু জগন্নাথপুর চৌমুনীর এ রাস্তাটি খারাপ হওয়ায় হাজার হাজার জনগণ এ রাস্তা ব্যবহার করতে পারছে না।
জগনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রহমত উল্ল্যহ জানান, রাস্তাটি এত খারাপ অবস্থা যে এখন পিক-আপ, সিএনজি তো দূরের কথা সাধারণ মানুষও হাঁটা কষ্টকর।
জেলার চান্দিনার উপজেলার নিমসার বাজার এলাকার কয়েকটি সড়কে মালবাহী ট্রাক আটকে গেছে। একদিন আগে দৃশ্যটি দেখা গেল।
পানি-কাদার ঝাপটা লাগে পথচারী চলাচলেও। যানবাহন চলতে চরম ভোগান্তি। সড়কের এক তৃতীয়াংশ বর্ষার আগেই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জেলার চান্দিনার উপজেলা নিমসার থেকে পাশ্ববর্তী বরুড়া উপজেলা সদরে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কটির আড়াই কিলোমিটার। এছাড়া এ অংশে অসংখ্য খানাখন্দক সৃষ্ট হওয়ায় চরম ঝুঁকিতে চলাচল করছে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের এই সড়কটিতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিক-আপ, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ব্যাটারিত চালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও সড়কটি এখন খানাখন্দে ভরপুর। অল্প বৃষ্টিতে খানাখন্দের মধ্যে পানি জমে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,জেলার চৌদ্দগ্রাম ও সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি সড়কের একই অবস্থা।এই সড়কে কাভার্ডভ্যান, পিক-আপ, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ব্যাটারিত চালিত অটোরিকশা চলাচল সবসময় থাকলেও এখন বৃষ্টিতে জলবাদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যাহবাহন চলাচল বন্ধ ,এতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে ১০ গ্রামের মানুষের। এছাড়া বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজার থেকে পাশ্ববর্তী বরুড়া উপজেলা সদরে যাওয়ার রাস্তার একই অবস্থা।
নিমসার সংলগ্ন মোকাম, কেদারপুর, পাচকিত্তা, হালগাঁও গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে এই সড়কটিতে। নিমসার কাঁচাবাজার থেকে তরকারী বোঝাই কমপক্ষে শতাধিক মিনি ট্রাক প্রতিদিন ওই সড়ক ব্যবহার করে জেলার বিভিন্ন স্থানেও যাতায়াত করে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বুড়িচং অংশের নিমসার বাজার থেকে কেদারপুর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশের প্রায় পুরোটাই অসংখ্য খানাখন্দক সৃষ্ট হওয়ায় যানবাহন চলাচল করছে চরম ঝুঁকিতে। অল্প বৃষ্টিতে সড়কের খানাখন্দে পানি জমে যায়। এতে করে সড়কে চলাচলরত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলছে।
নিমসার বাজার ব্যবসায়ী মামুন সরকার , সড়কটির মাঝে খানাখন্দক থাকায় প্রায়ই গাড়ি উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃষ্টিতে পানি জমে থাকায় সড়কটির পাশ দিয়ে পথচারীরা হাঁটাচলা করতে পারছে না। দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।
রফিক নামের আরেক স্থানীয় দোকানদার জানান, গত কয়েক বছর ধরে বর্ষাকাল আসলেই এই সড়কটিতে খনাখন্দক থাকায় পানি জমে যায়, পরিবহন চলাচল দুরের কথা, কাদায় মানুষ হাঁটা চলাই অসম্ভব হয়ে যায়।
মোকাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুন্সি বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে চলাচলরত মানুষগুলো চরম দুর্ভোগে আছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন বিধায় সড়কটিতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কিছুই করার নেই। তবে উপজেলা মাসিক সমন্বয়ক কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করবো।
এই বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই রাব্বী বলেন, উপজেলার সড়ক গুলোর অধিকাংশ এলজিইডির। বরুড়া অংশে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামী দুই মাসের সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে। বাকী সড়কগুলোর বিষয় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবো ।