শুক্রবার ১৭ †m‡Þ¤^i ২০২১


চাঁদাবাজি বন্ধ নেই সড়কে সড়কে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.06.2021

রুবেল মজুমদার।।
রিকশাচালক মফিজ মিয়া।কুমিল্লা নগরীর টছমব্রিজ একালায় দুই সন্তান নিয়ে বস্তিতে বসবাস। টিভিতে সারাদেশে সাতদিনের লকডাউনের খবর শুনে রবিবার সকাল ৭ টায় বেরিয়ে যান রিকশা নিয়ে।নগরীর জাঙ্গালিয়া বাস স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন যাত্রীর খোঁজে।এমন সময় সড়কের দুই পাশ থেকে তার সামনে ছুটে আসেন হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি নিয়ে দুই যুবক। একটি স্লিপ হাতে দিয়ে ২০ টাকা চাঁদা দাবি করেন । কিন্তু মফিজ মিয়া তার কাছে কোনো টাকা নেই বলতেই গালে চড় বসিয়ে দেন।এর ঠিক ১০ মিনিট পর চাঁদা না দেওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা চালক সুমন মিয়ার ওপর চড়াও হন তারা ।এতে কয়েকজন পথচারী ও যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এই দুই যুবক এবং চাঁদা আদায়কারীর পক্ষ নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সড়কে হাজির হলেন তাদের আরও ১০-১২জন সঙ্গী। তাদের রুদ্রমূর্তি দেখে ভয়ে শেষ পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য হন সুমন ও মফিজ মিয়া।
কুমিল্লার নগরীতে এমন ঘটনা নিত্যদিনের। নগরীর টমছমব্রিজ,চকবাজার,কোটবাড়ি রোড,পদুয়ার বাজার সিএনজি স্ট্যান্ড,শাসনগাছা, চকবাজার কাশারীপট্টি,জাঙ্গালিয়া মোড়সহ প্রায় ১০টি পয়েন্টে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কথিত শ্রমিক সংগঠনের নামে বিভিন্ন স্লিপ দিয়ে নগরীর প্রবেশপথ এইভাবে প্রতিনিয়ত দিনরাত ছোট বড় যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজরা ।
অন্যদিকে নগরীর মতো জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে সড়কে একই কায়দায় চলছে চাঁদাবাজি। সড়কের মাঝ রাস্তায় কিংবা উপজেলার পৌর এলাকার অটোরিকশা,ইজিবাইক,সিএনজি দাঁড় করিয়ে লাইনম্যানদের মাধ্যমে হাতে স্লিপ দিয়ে আদায় করা হচ্ছে করছে চাঁদা। শুধু জেলা পরিষদের ইজারাকৃত স্ট্যান্ডেই নয়,চাঁদা দিতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের সড়কের পথে পথেও। এসব চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেটের কাছে পরিবহন শ্রমিকরা অসহায় ।
সিএনজি অটোরিকশা চালক কালু মিয়া বলেন, তারা প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে তার আয় হয় ১০০০-১১০০ টাকা ।বুড়িচং উপজেলা শুধু সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে হয় দিনে ২৯০ টাকা । অথচ দিনশেষ মালিককে জমা দিতে হয় ৫০০ টাকা । বাকি ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। বিষয়টি আমরা উপজেলা পরিষদের পরিবহন শ্রমিকরা মিলে কয়েকবার অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি ।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে নগরীতে তিনটি বাস স্টেশন ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগরের সড়কে কয়েকজন চাঁদাবাজকে আমরা পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগিতা কয়েকবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছি।আশা করি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপারে আমাদের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। সুনির্দিষ্ট স্থানে কোথাও যদি চাঁদাবাজির তথ্য থাকে, আমাদের যে কেউ জানাতে পারে । আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।