শুক্রবার ১৭ †m‡Þ¤^i ২০২১


কুমিল্লার উঠানে চাউলের গুঁড়ো শুকানোর উৎসব


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.07.2021

মহিউদ্দিন মোল্লা
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার উঠানে উঠানে এখন আতপ চাউলের গুঁড়ো(স্থানীয় ভাষায় চাউলের গুড়ি) শুকানোর উৎসব চলছে। ঈদ-উল-আযহার দিন রুটি বানানোর জন্য এই চাউলের গুঁড়ো প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোথাও বাড়িতে এসে ধান ও চাউল ভাঙিয়ে দেয় ভ্রাম্যমাণ মিলের লোকজন। কোথাও বাজারে গিয়ে চাউল ভাঙিয়ে আনতে হয়।
বিভিন্ন উপজেলায় খবর নিয়ে জানা যায়,কুমিল্লার বেশিরভাগ এলাকায় ঈদ-উল-আযহার দিন রুটি বানানোর জন্য আতপ চাউলের গুঁড়ো প্রস্তুত করা। বাজারে ভাঙিয়ে আনলে খরচ কম পড়ে। বাড়িতে আসা মিলে ভাঙিয়ে নিলে বেশি খরচ দিতে হয়। ভাঙানোর পর চাউল গুঁড়ো উঠানে বিছানার ওপর কাপড় দিয়ে শুকাতে হয়। না হয় গুঁড়ো নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি ওঠানে এখন সাদা গুঁড়োর মেলা বসেছে।
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনপাল গ্রামের জমিলা খাতুন নামের একজন গৃহবধূ জানান,এই এলাকায় সবাই হয়তো পশু কুরবানি দিতে পারবেন না। তবে চাউলের গুঁড়ো প্রায় সব পরিবার প্রস্তুত করছে। কারণ কুরবানিদাতা পরিবার থেকে তারা মাংস পাবেন। এসব এলাকায় চাউলের রুটি ছাড়া কুরাবানির ঈদ যেন অসম্পন্ন মনে করা হয়। শত বছর ধরে এই সংস্কৃতি চলে আসছে।
এই এলাকায় বাড়িতে এসে মেশিনে ধান ও চাউল ভাঙিয়ে দেন আবদুল কুদ্দুস। তিনি জানান,এখন প্রতি বাড়িতে এখন চাউল ভাঙার উৎসব চলছে। তবে গত দুই বছর ধরে করোনার কারণে মানুষের হাতে টাকা কম, তাই মানুষ চাউল কম ভাঙাচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি বাড়িতে পাঁচ হাজার টাকার মতো কাজ হতো সেখানে তিন হাজার টাকার কাজও হচ্ছে না। বাজারে বিদ্যুত দিয়ে মেশিন চালানো হয়। আমরা ডিজেল দিয়ে মিল চালাই। আবার পথ খরচ আছে। তাই বাজারে যে ধান ভাঙাতে মণ ৬০ টাকা লাগে সেখানে আমাদের ১০০টাকা নিতে হচ্ছে। এছাড়া যে চাউল প্রতি কেজি গুঁড়ো করতে বাজারে পাঁচ টাকা সেখানে আমরা সাত টাকা করে নিচ্ছি।
জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা অঞ্চলে কাজ করছি। এখানে ঈদ-উল-আযহার দিন রুটি বানানোর জন্য আতপ চাউলের গুঁড়ো প্রস্তুত করা হয়। তবে সব জেলায় এই সংস্কৃতি নেই। বিশেষ করে আমার নিজ জেলা নরসিংদীতেও এমনটা দেখিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে চাউলের গুঁড়ো প্রস্তুত করা বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। আগে ঢেঁকিতে চাউল গুঁড়ো করা হতো। এখন মেশিনে ভাঙানো হচ্ছে। সাধারণত স্থানীয় জাতের ধান থেকে এই চাউল ও চাউলের গুঁড়ো করা হয়।