শুক্রবার ১৭ †m‡Þ¤^i ২০২১


কুমিল্লায় জনপ্রিয় হচ্ছে গয়াল পালন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
16.07.2021

মাহফুজ নান্টু।।
গয়াল বা বনগরু। গহীন জঙ্গলের এই প্রাণীটি এখন কুমিল্লার সমতল ভূমিতে লালন-পালন হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে গরুর পাশাপাশি গয়াল পালনও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
গয়াল গভীর জঙ্গলের প্রাণী হলেও আমাদের গৃহপালিত গরুর মতোই দেখতে। বনে এদের বসবাস বলে এদের বনগরু বলা হয়। আকার আকৃতি বিরাট। গয়ালের ওজন ৪০০ থেকে ৮০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গরু দিনে যে খাবার খায়, একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গয়াল তার দ্বিগুণ খাবার খায়। বুনো গয়াল দলবদ্ধভাবে বাস করে। সাধারণত ১০-১১ মাস গর্ভধারণের পর স্ত্রী গয়াল একটি বাচ্চার জন্ম দেয়।
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বাসিন্দা সাকিউল হক আলভী। গত এক বছর আগে শখের বসে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম থেকে দুটি গয়াল আনেন। বড়টির নাম দেন বড় মিয়া, ছোটটির নাম ছোট মিয়া। বড় গয়ালটি ১ লাখ ৬০ হাজার, ছোট গয়ালটি ১লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনে আনেন। গাড়ি ভাড়াসহ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করেন।
আলভী জানান, বড় গয়ালটির ওজন ১৬ মণ। তিনি বড় গয়ালটি তার চাচা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর কাছে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর ছোট গয়ালটি কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ৩ লাখ টাকা হলে ছোট গয়ালটি বিক্রি করবেন আলভী।
ফাতেমা এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সাকিউল হক আলভী জানান, তার ফার্মে যে গরু রয়েছে সেগুলোর পাশাপাশি তিনি গয়াল দুটি লালন পালন করেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে পালনকৃত গয়াল দুটি থেকে ভালো মুনাফা হবে বলে জানান তিনি। তাই আগামী কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে তিনি আরো বেশ কিছু গয়াল পালন করবেন বলে জানান।
গয়াল তৃণভোজী। হাতির মতোই গয়ালের খাদ্যভ্যাস। শক্ত ও কর্কশ ঘাস খাওয়ার কারণে গয়ালের দাঁত দ্রুত ক্ষয় হয়। এই ক্ষয় পূরণে এদের ক্ষার ও লবণযুক্ত মাটি খেতে হয়। অবশ্য অন্ত্রের পোকা কমানোর জন্যও এরা লবণ খায়। এই অভ্যাসের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে লবণের টোপ ফেলে গয়াল শিকার করে পাহাড়িরা। তারপর পোষ মানানো হয়।

বর্তমানে কুমিল্লায় যেসব গয়াল দেখা যায়, তার বেশির ভাগই লবণের ফাঁদ দিয়ে শিকার করা বুনো গয়াল।
কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম শাওন। তিনি একান্নবর্তী এগ্রো প্রজেক্টের স্বত্বাধিকারী। শাওন জানান, গত ৬-৭ মাস আগে শখের বসে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে একটি গয়াল এনে লালন পালন করেছেন। গয়ালটির ওজন এখন লাইভ ওজন ১৪ মন । নাজমুল জানান, তার পালনকৃত গয়ালটি সাড়ে ৫ লাখ টাকা হলে বিক্রি করবেন। পাশাপাশি তিনি আগামী বছর কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে গয়াল লালন পালন করবেন। সে লক্ষ্যে তিনি তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.নজরুল ইসলাম বলেন, গরু লালন পালনের মতো করেই গয়াল পাল করা যায়। তবে গরুর চেয়ে গয়ালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। কুমিল্লায় যারা গয়াল পালন করতে ইচ্ছুক তারা চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ সার্বিক সহযোগিতা করবো।